‘কিছুই বদলায়নি’—সরকারকে ঘিরে মির্জা ফখরুলের আক্ষেপ
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশে পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করেছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘আমি দেখছি কিছুই বদলায়নি। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে পরিবর্তন আসবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে পরিবর্তন দেখছি না। আগে যারা ঘুষ খেত, তারা ঘুষ খাওয়ার ফন্দিফিকির করছে। একইভাবে যারা ভালো একটা কাজ আটকে দিত, তারা এখনো তা আটকে দিচ্ছে। একইভাবে লোকজন ভোল পাল্টাচ্ছে, ভোল পাল্টানো লোকজনই এখন অনেক বেশি জুলাই যোদ্ধা হয়ে গেছে। তবে আমি আশাবাদী এই কারণে যে, আমি পরিবর্তন দেখছি একজন মানুষের মধ্যে। সেটা তারেক রহমানের মধ্যে।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। তিনি নতুন নতুন নজির স্থাপন করছেন, সেই নজিরকে যদি আমরা সামনে নিয়ে যাই সবাই মিলে, তাহলে আমার মনে হয় যে হয়ত দেশে পরিবর্তনটা হবে। সবাই মিলে তাকে (তারেক রহমান) সমর্থন দেওয়া দরকার।’
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই যে ধরেন তিনি (তারেক রহমান) বলছেন যে পরিষ্কার কর। বাচ্চাদের বলছেন, তোমরা কিছু ফেলতে গেলে ওকে আটকাবে, বলবে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন। সিটি করপোরেশনকে বলছেন, তোমরা পরিষ্কার কর। কিন্তু হচ্ছে, যতক্ষণ উনি থাকছেন বা কেউ থাকছে ততক্ষণ। তারপরে আবার সেই আগের মতোই থেকে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। সমাজের সব ক্ষেত্রে যদি পরিবর্তন আমরা আনতে পারি, তাহলে জুলাই বিপ্লব সফল হবে, এর পরিণতি দেখতে পারব। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষ অনেক বেশি পরিশ্রমী, ত্যাগী। তারা পরিবর্তন আনতে চায়। যে যেখানে আছি আমরা যদি সঠিকভাবে কাজ করতে পারি, তাহলে নিশ্চয়ই পরিবর্তন আসবে। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী কাজ করে চলেছেন এবং প্রতিমুহূর্তে চেষ্টা করছেন কীভাবে পরিবর্তন আনা যায়।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কাকরাইলের তথ্য ভবনে এই আলোচনা সভা হয়। এই আয়োজনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়; উদ্বোধন করা হয় আলোকচিত্র প্রদর্শনীর।
আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী যিনি সরকারি দলের মহাসচিব, নিজের আক্ষেপ ও কষ্টের কথাও বলেন। তিনি বলেন, ‘কথাগুলো বলছি অনেক কষ্টে। আমার এই ৪-৫ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা আপনাদেরকে একটু বলা দরকার। আমি দেখছি যে কিছুই বদলায়নি।’
‘এই কথাগুলো আক্ষেপে বলছি। আক্ষেপে বলছি কারণ আমার বয়স অনেক। আমি সত্যিকার অর্থেই এবার পরিবর্তনটা দেখতে চেয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত সেটা দেখছি না আমাদের মধ্যে,’ যোগ করেন তিনি।
প্রশাসনের পুরোনো সংস্কৃতি চলছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের মন-মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন; অন্যথায় জুলাইয়ের আত্মত্যাগ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে আনবে না।’
জুলাই বিপ্লবের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক প্রাণ গেছে। প্রাণ দিয়েছেন আমাদের সন্তানেরা, আমাদের ছেলেরা। যারা আপনজন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি মুহূর্তেই মনে পড়বে যে আমার ভাইটা চলে গেছে। ছবিতে দেখলাম মা অপেক্ষা করছেন, ভাবছেন ছেলে বোধহয় ফিরে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন নারী তার সন্তানকে হারিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আই লস্ট মাই ফ্যামিলি, অনেক মূল্য দিতে হয়েছে, বহু মূল্য। এখন আমরা যদি এই মূল্য দেওয়াটাকে ধারণ করতে না পারি, সেটাকে সামনে রেখে যদি আমরা পরিবর্তনের চেষ্টা না করতে পারি, তাহলে তো এই মায়ের অশ্রুধারা, এই রক্তস্রোত এমনি এমনি হারিয়ে যাবে। কথাগুলো বলছি অনেক কষ্টে।’
সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামে বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা কারাবরণ, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। এই দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের কৌশল ও ছাত্রদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্দোলন সর্বজনীন রূপ পায়। শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচার পতনের পথ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে কেন্দ্র করে যেন কেউ কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এ কে এম আবদুল হাকিম, সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ প্রমুখ।