চেকপোস্টে হয়রানির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার টিএন্ডটি এলাকায় সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে তল্লাশির সময় সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে দুই কলেজছাত্রীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং একজন সিএনজিচালককে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ঘটনায় চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের ভূমিকা ও সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
২ নভেম্বর সকাল ৯টার দিকে উখিয়ার টিএন্ডটি এলাকায় সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এ সময় ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার আশঙ্কায় দুই কলেজছাত্রী সিএনজিচালককে গাড়িটি সামনে এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যরা তাঁদের পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের কথা শুনে গাড়িটি ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেন বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে সেখানে দায়িত্ব পালনরত এপিবিএনের (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) এক সদস্য ওই সিএনজিচালককে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং গাড়িতে থাকা দুই কলেজছাত্রীকে নামিয়ে পাশে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এতে তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চেকপোস্টে দায়িত্ব বণ্টন, তল্লাশির পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে চেকপোস্টে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন হতে পারে। তবে একই ঘটনায় এক বাহিনীর সদস্যদের সিদ্ধান্তের পর অন্য সদস্যের পক্ষ থেকে পুনরায় বাধা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও প্রক্রিয়া কী ছিল, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল ও শিক্ষার্থীদের সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর বিষয়টি কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে?
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। অভিযোগটি এপিবিএনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম সোহরাওয়ার্দী বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাকে সম্মান করি। তবে নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা যেন ভোগান্তির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ বা তল্লাশি হতে পারে। কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের অযথা হয়রানির কারণ না হয়।’
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এপিবিএন সদস্যের বক্তব্য এবং দুই কলেজছাত্রীর বিস্তারিত পরিচয় ও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের পেশাদারত্ব, পারস্পরিক সমন্বয় ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।