উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় গ্যাসের আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের তিন ইউনিট
কক্সবাজারের উখিয়ায় টিউবওয়েল খনন করতে গিয়ে মাটির নিচ থেকে গ্যাস বের হওয়ার পর আগুন জ্বলে ওঠার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী গ্রামের একটি বাড়ির আঙিনায় এ ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার সকাল ( ২৭ অক্টোবর) থেকে জ্বলতে থাকা আগুন দুপুর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেরিন ড্রাইভের পাশে ছোট ইনানী এলাকার মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় নলকূপ বসানোর কাজ চলছিল। খননকাজের একপর্যায়ে মাটির নিচ থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে সেই গ্যাসে আগুন জ্বলে ওঠে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় স্থানীয় লোকজন প্রথমে বালু ও পানি ছিটিয়ে তা নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। পরে কক্সবাজার শহর থেকেও ফায়ার সার্ভিসের আরেকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। দুপুর পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় গ্যাসের আগুন বেরিয়ে আসে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাটির নিচে গ্যাসের উপস্থিতির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেনও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সম্প্রতি ঢাকার এক ব্যক্তি ওই এলাকায় জমি কেনেন। এরপর সেখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগে একটি স্থানে নলকূপ খনন করা হলেও প্রায় ৭০০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত গিয়ে পানযোগ্য পানি পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। পরে সোমবার পাশের আরেকটি স্থানে নলকূপ খননের কাজ শুরু করা হয়। সেখানেই মঙ্গলবার আগুন জ্বলে ওঠে।
জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শামশুল আলম জানান, দুপুরের দিকেও আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। বরং আগুনের তীব্রতা বাড়ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ধারণা, ওই এলাকায় মাটির নিচে প্রাকৃতিক গ্যাস থাকতে পারে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘরবাড়ি ও আবাসিক হোটেল-রিসোর্টের ঘনবসতি নেই। তবে আগুন দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকায় আশপাশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মকর্তা জানান, মাটির নিচ থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন জ্বলতে থাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের সংস্পর্শে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।