আট বছর পর একরাম হত্যা মামলায় চার্জশিট, ন্যায়বিচার চাইলেন স্ত্রী
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জশিট দাখিলের পর ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তার স্ত্রী আয়েশা বেগম। তিনি বলেন, ‘আট বছর ধরে বিচার চাইছি। এবার ন্যায়বিচার চাই। খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি আমাদের জবরদখল হওয়া জমি ফেরত চাই।’
আয়েশা বেগমের অভিযোগ, ২০১৮ সালের ২৬ মে স্বামীকে হত্যার পর তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক সংকটে পড়ে। একই সঙ্গে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তাদের পৈতৃক জমিজমাও দখল করা হয়।
২০১৮ সালের ২৬ মে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একরামুল হক। মৃত্যুর আগে স্ত্রী ও দুই মেয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার শেষ কথোপকথনের অডিও দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। সেই রেকর্ডে একরামের শেষ আকুতি, পরিবারের কান্না এবং গুলির শব্দ উঠে আসে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর একরামের পরিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করে। গত ২৬ জুলাই ট্রাইব্যুনালে মামলার আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিল করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চার্জশিট আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। একই সঙ্গে কারাগারে থাকা তিন আসামিকে আগামী ২৫ আগস্ট ২০২৬ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের বাইরে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পাওয়া গেছে। তার দাবি, রাজনৈতিক আধিপত্য ও একরামের পরিবারের সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
বর্তমানে আবদুর রহমান বদি, কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম অন্য মামলায় কারাগারে রয়েছেন। শেখ হাসিনাসহ বাকি আট আসামি পলাতক বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে।
দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার পর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় একরামের পরিবার ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আগামী ২৫ আগস্টের শুনানির দিকে তাকিয়ে আছে।