অনিয়ম ও দুর্নীতি

কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট জিপ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান, দুই গাড়ি জব্দ

Copied
কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট জিপ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান, দুই গাড়ি জব্দ

পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট জিপের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। এ সময় জরিমানা করা হয় ১৮ হাজার টাকা এবং প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় দুটি জিপ জব্দ করে জেলা প্রশাসন। ছবি সংগৃহীত

টানা চার দিনের সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ হয়ে ইনানি, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফ ভ্রমণে খোলা ট্যুরিস্ট জিপের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মাধ্যমে পর্যটকদের জিম্মি করে রেখেছিল একটি সিন্ডিকেট। অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও গাড়ি জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, সাধারণ সময়ে একটি ট্যুরিস্ট জিপের ভাড়া সাড়ে চার হাজার থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে হলেও ছুটির সময় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দাবি করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে পর্যটকদের একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কাছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি। অভিযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে কয়েকজন ট্যুরিস্ট জিপ মালিক ও চালককে মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই সঙ্গে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় দুটি ট্যুরিস্ট জিপ জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানের পর পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের দাবি, ছুটির মৌসুম এলেই একটি চক্র অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে পর্যটকদের ভোগান্তিতে ফেলে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে এমন অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি বলেন, "পর্যটকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা কোনো ধরনের হয়রানি বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্র, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সেবাখাতে নিয়মিত নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।