কক্সবাজার

কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, রিসোর্ট-কটেজে কমেছে বুকিং

কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, রিসোর্ট-কটেজে কমেছে বুকিং

সৈকতের লাবণী পয়েন্টে পর্যটকদের ভিড়। ছবি সংগৃহীত

দুর্গাপূজার টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। সকাল থেকেই বাস ও ট্রেনে পর্যটকদের আগমন বাড়ছে। গত কয়েক দিন ধরেই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। তবে সৈকত ও শহরের হোটেল-গেস্টহাউসে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়লেও পাটুয়ারটেক সৈকতের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনার পর মেরিন ড্রাইভ এলাকার রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে কমেছে পর্যটকদের আগ্রহ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি রিসোর্ট-কটেজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় অনেক পর্যটক এসব স্থাপনায় থাকার পরিবর্তে শহরের হোটেল বেছে নিচ্ছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর মেরিন ড্রাইভ এলাকার বেশ কয়েকটি রিসোর্ট ও কটেজে আগাম বুকিং বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে। এতে পর্যটন মৌসুমে ব্যবসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

মেরিন ড্রাইভের ইনানী সৈকত এলাকার কয়েকটি রিসোর্টের কর্মীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনার পর পর্যটকদের মধ্যে রিসোর্টে থাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে আগাম বুকিং বাতিল করছেন। আবার কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে শহরের হোটেল ও গেস্টহাউসে থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ফলে মেরিন ড্রাইভ এলাকার রিসোর্ট-কটেজ ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, অগ্নিকাণ্ডে পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনার পর মেরিন ড্রাইভ এলাকার রিসোর্ট ও কটেজগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ খালি পড়ে রয়েছে। বিপরীতে শহরের হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোতে পর্যটকদের চাপ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, টানা ছুটিকে ঘিরে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করছেন হোটেল মালিকেরা। কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ২১ অক্টোবর বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। দুর্গাপূজার ছুটি ও অন্যান্য ছুটি মিলিয়ে এ সময়ে অন্তত ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম হতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই সৈকতের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। কেউ সাগরের পানিতে গোসল করছেন, কেউ আবার বালুচরে ছাতা ও চেয়ারে বসে উপভোগ করছেন সমুদ্রের সৌন্দর্য। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে অনেককে সৈকতে সময় কাটাতে দেখা গেছে। পর্যটকদের আনাগোনায় সৈকত এলাকার বিভিন্ন দোকান, খাবারের স্টল ও অন্যান্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ব্যস্ততা বেড়েছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল শুক্কুর বলেন, টানা ছুটিতে কক্সবাজারে ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম হলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহনসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে। পর্যটকদের আগমন বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান বলেন, ছুটিতে কক্সবাজারে সর্বোচ্চসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটতে পারে। পর্যটকদের হয়রানি বন্ধ, সেবার মান নিশ্চিত করা এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করছেন।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপূজার ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের আগমন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ার প্রত্যাশা থাকলেও অগ্নিকাণ্ডের পর মেরিন ড্রাইভ এলাকার রিসোর্ট-কটেজ ব্যবসায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এসব স্থাপনার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা এখন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।