সাপ্তাহিক ছুটিতে পর্যটকে মুখর কক্সবাজার সৈকত
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের পর্যটন এলাকাগুলো। শুক্রবার বিকেল থেকে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে বাড়তে থাকে পর্যটকদের উপস্থিতি। উত্তাল ঢেউ উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা মেতেছেন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকদের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে পুরো সৈকত এলাকায়। কেউ সমুদ্রের পানিতে নেমে ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দ করছেন, কেউ আবার সৈকতে বসে উপভোগ করছেন সমুদ্র ও প্রকৃতির সৌন্দর্য। পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে ছুটির দিন কাটাতে অনেকেই এসেছেন কক্সবাজারে।
আকাশে কখনো রোদ, কখনো মেঘ—এমন পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার মধ্যেও পর্যটকদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। সৈকতের বালুচরে শিশুদের খেলাধুলা, ঘোড়ায় চড়াসহ নানা বিনোদনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। সব মিলিয়ে কক্সবাজার সৈকতে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বর্ষা মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও আবহাওয়ার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আবারও পর্যটন এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে প্রাণচাঞ্চল্য। পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশা, আগামী দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে।
ঢাকা হতে আহত পর্যটক শাহীন মাহমুদ বলেন, ‘কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই বন্ধুর সঙ্গে হুট করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চলে এলাম। আবহাওয়ার সতর্কবার্তা দেখে একটু ভয় পেয়েছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত খুবই সুন্দর একটি দিন কাটালাম।’
আরেক পর্যটক জোনাকি তন্বি বলেন, ‘সমুদ্র আর আকাশ—এই সৌন্দর্য অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। সমুদ্রের ঢেউ আর নির্মল বাতাস ক্লান্তি দূর করার জন্য স্বর্গীয় সুখের মতো। সাগরকে ঠিক এভাবেই উপভোগ করি।’
সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র লাইফ গার্ড কর্মী সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, ‘আমরা লাইফ গার্ড সদস্যরা নিয়মিত সৈকত পর্যবেক্ষণ করছি। ভ্রমণপিপাসুদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সমুদ্রে গোসল করার পরামর্শ দিচ্ছি। সাগরের ঢেউ উত্তাল থাকায় এখনো লাল পতাকা উড়িয়ে সমুদ্রস্নানে সতর্ক করা হচ্ছে পর্যটকদের। তবে অনেকে সতর্কতা মানছেন, আবার অনেকেই মানছেন না। তারপরও সৈকতের সুগন্ধা, কলাতলী ও লাবণী পয়েন্টে লাইফ গার্ড কর্মীরা সজাগ রয়েছেন।’
এবিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং পর্যটন শিল্পের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সবসময় আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা নজরদারি করছি, যাতে কেউ অতিরিক্ত দাম নিতে না পারে এবং পর্যটকদের কোনো ধরনের হয়রানি করতে না পারে।’