মতামত | বিশ্লেষণ

উখিয়ায় কমিউনিটি রিপোর্টিং জোরদারে এমবোলডেন বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা

উখিয়ায় কমিউনিটি রিপোর্টিং জোরদারে এমবোলডেন বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা

স্থানীয় পর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ ও কমিউনিটি রিপোর্টিং জোরদার করার বিষয়কে কেন্দ্র করে উখিয়ায় এমবোলডেন বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা। ছবি- কক্সবাজার কণ্ঠ

কক্সবাজারের উখিয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমস্যা ও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে পাঁচটি উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে যুব প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘ইয়ুথ কমিউনিটি এনগেজমেন্ট গ্রুপ’ (YCEG) গঠন, অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা চালু করা।

সম্প্রতি উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব প্রস্তাব উঠে আসে। যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন এমবোলডেন বাংলাদেশ আয়োজিত এ সভায় সহযোগিতা করে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, কারিগরি সহায়তা দেয় শেড (SHED) এবং সহ-অর্থায়ন করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

‘ইয়ুথ-লেড পিসবিল্ডিং অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইনিশিয়েটিভস ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড মিয়ানমার’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মী, যুব প্রতিনিধি ও কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির-সংলগ্ন এলাকার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ জানানোর বিদ্যমান ব্যবস্থা, সেবা প্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনাপর্বে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন এমবোলডেন বাংলাদেশের অপারেশন লিড আফিফা ইয়াসের উলফা।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, রোহিঙ্গা শিবির-সংলগ্ন উখিয়ার স্থানীয় জনগোষ্ঠী জীবিকা, সরকারি সেবা, অবকাঠামো ও সামাজিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে জনগণের সঙ্গে স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অভিযোগের বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অভিযোগকারীদের অবহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোচনায় পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আনজুমান আরা বলেন, “এলাকার মানুষ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে আসেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না কোন সমস্যার জন্য কোথায় যেতে হবে। অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে মানুষের ভোগান্তি কমবে। এ জন্য স্থানীয় সরকার, যুবসমাজ ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি নাসিমা শাহিন বলেন, “শুধু অভিযোগ গ্রহণ করলেই হবে না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে কি না এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও দেখতে হবে। বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও সহজলভ্য অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকা জরুরি।”

ইন সার্চ অব হিউম্যানিটির যুব প্রতিনিধি রায়হান উদ্দিন বলেন, “আমাদের এলাকার অনেক সমস্যা আমরা নিজেরাই দেখি। কিন্তু কোথায় এবং কীভাবে এসব সমস্যা তুলে ধরতে হবে, তা অনেক সময় জানা থাকে না। তরুণদের এ কাজে যুক্ত করা হলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ সহজ হবে।”

সভায় কমিউনিটি রিপোর্টিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পাঁচটি উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। এগুলো হলো—স্থানীয় যুব প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘ইয়ুথ কমিউনিটি এনগেজমেন্ট গ্রুপ’ গঠন, ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে একজন যোগাযোগকারী বা ফোকাল পারসন নির্ধারণ, অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগকারীকে নিয়মিত তথ্য প্রদানের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে নিয়মিত সমন্বয় সভার আয়োজন।

প্রস্তাবিত ইয়ুথ কমিউনিটি এনগেজমেন্ট গ্রুপের কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকিতে স্থানীয় যুব সংগঠন ‘ইন সার্চ অব হিউম্যানিটি’কে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। সংগঠনটি এমবোলডেন বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলে সভায় আলোচনা হয়।

এ ছাড়া এমবোলডেন বাংলাদেশ ও ইন সার্চ অব হিউম্যানিটির যৌথ উদ্যোগে যুব প্রতিনিধিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং গৃহীত উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

এমবোলডেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম লিড ফয়সাল আহমেদ বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমস্যা চিহ্নিত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো, বিদ্যমান অভিযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় যুব সংগঠন, ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ ও পারস্পরিক আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির-সংলগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার হবে।