কে এই বিউটি রাণী পাল? কেন তার পক্ষে রিলস ভাইরাল
শাড়ি পরে নিজ স্কুল প্রাঙ্গণে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে...’ গানের তালে হাঁটার একটি সাধারণ রিলস ভিডিও পোস্ট করেই অপ্রত্যাশিত এক ঝড়ের মুখে পড়েছিলেন সিলেটের শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল। অথচ এই শিক্ষিকাই ২০২৬ সালে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ট্রল-সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা শিক্ষক সমাজকে এক কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে, শিক্ষকের ব্যক্তিগত সৃজনশীলতার সীমারেখা কোথায়?
বিউটি রাণী পাল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।২০১৬ সাল থেকে পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা, নাচ-গানের মাধ্যমে পাঠদান ও পরিবেশ বিষয়ক নানা কার্যক্রমে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালে তিনি সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা পদক অর্জন করেন।
গত ২৩ জুলাই স্কুল ছুটির পর বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে সহকর্মীদের সঙ্গে ধারন করা একটি ছোট রিলস ভিডিও তিনি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন। ‘শ্রাবণের মেঘগুলো...’ গানের তালে শাড়ি পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাঁটার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় নানা সমালোচনা ও ট্রল। একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি নিয়ে নেতিবাচক অপপ্রচার চালানো হয়।
বিউটি রাণী পাল জানান, ‘আমি আসলে রিল বানাতে জানি না। এক সহকর্মীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম কীভাবে রিল তৈরি করা হয়। ছুটির পর স্কুল প্রাঙ্গণে আমি হেঁটেছি, আর তিনি ভিডিওটি ধারণ করেছেন।’
বিউটি রাণী অভিযোগ করেন, ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুকভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সম্পাদক আসিফ আহমদ ইকবাল হিরণ তার অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ডাউনলোড করে প্রকাশ করেন। নিজের ফেসবুক পেজে তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
তার দাবি, আসিফ ইকবাল হিরণের পাঠানো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এমন কাজ করেছেন। ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ ও আসিফ ইকবাল হিরণের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিউটি রাণী পাল। তিনি অভিযোগ করেন, নতুন করে ‘প্রিয় ফেঞ্চুগঞ্জ’ নামের আরেকটি ফেসবুক পেজ থেকেও তাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচার চালানো হচ্ছে।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান বলেন, ‘একজন শিক্ষক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশাদ বলেন, ‘বিষয়টিকে আমরা অন্যায় হিসেবে দেখছি না। এ ঘটনায় কোনো তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।