গৃহবধূ ধর্ষণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ! আসলে কী ঘটনা ঘটেছে?
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রইক্ষ্যং উত্তরপাড়ায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণ ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ থাকায় বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার গভীর রাতে রইক্ষ্যং উত্তরপাড়ার একটি বাড়িতে তালা খুলে প্রবেশ করে একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি গৃহবধূকে ধর্ষণ ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার সময় ওই গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার সকাল ১০টার দিকে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীর স্বামী নুরুল হাসিম ফকিরার দাবি, তিনি জুমচাষি। ঘটনার রাতে তিনি জুমের জমি পাহারা দিতে বাড়ির বাইরে ছিলেন। তার অনুপস্থিতির সুযোগে অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে তার স্ত্রীকে বেঁধে ধর্ষণ এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কাশেম। তার দাবি, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক ও সাজানো। নুরুল হাসিম ফকিরার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কাশেম বলেন, নুরুল হাসিমের প্রথম স্ত্রী তার আপন বোন। পারিবারিক বিরোধের জেরে নুরুল হাসিম তার বোনকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং পরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকে নুরুল হাসিমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান কাশেম।
তার দাবি, দীর্ঘদিনের ওই বিরোধের জের ধরে তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ধর্ষণ ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে।
পুলিশের তদন্ত, ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।