জুমার দিনে দোয়া কবুলের সেই পরম কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এ দিনে এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে কল্যাণের কিছু প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বিশেষ সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন। (বুখারি, ৯৩৫; মুসলিম, ৮৫২)
দোয়া কবুলের এই বিশেষ মুহূর্ত কখন—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। তবে দুটি মতকে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রথমত, ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসার সময় থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়। এ সময়ে খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নামাজ আদায়ে একাগ্র থাকা গুরুত্বপূর্ণ। (মুসলিম, ৮৫৩; আবু দাউদ, ১০৪৯)
দ্বিতীয়ত, আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এ সময়টি বিশেষভাবে অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। (আবু দাউদ, ১০৪৮; নাসাঈ, ১৩৮৯)
তাই জুমার দিনে শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের ওপর নির্ভর না করে খুতবার সময় থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বেশি বেশি জিকির, দরুদ ও দোয়ায় সময় কাটানো উত্তম। বিশেষ করে আসরের পরের সময়টিতে আল্লাহর কাছে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ প্রার্থনা করা উচিত।
পবিত্র কোরআনেও নামাজ শেষে আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান এবং তাঁকে বেশি বেশি স্মরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (সুরা আল-জুমুআ, আয়াত ১০)
জুমার দিনের এসব বরকতময় মুহূর্ত একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাই এ দিনের প্রতিটি মূল্যবান সময় ইবাদত, জিকির ও দোয়ায় কাজে লাগিয়ে আল্লাহর কাছে কল্যাণ ও মাগফিরাত কামনা করা উচিত।