ঝাউতলা জামে মসজিদে মরহুমদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
মানুষের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে, কিন্তু তাঁর নেক আমল, দ্বীনি খেদমত ও মানুষের জন্য রেখে যাওয়া অবদান স্মৃতিতে বেঁচে থাকে দীর্ঘদিন। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা কখনো মুছে যায় না; তবে তাঁদের জন্য দোয়া করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভালো কাজগুলো স্মরণ করা ইসলামের এক অনন্য শিক্ষা। সেই ধর্মীয় চেতনা ও মরহুমদের প্রতি ভালোবাসা থেকে কক্সবাজার শহরের ঐতিহ্যবাহী ঝাউতলা জামে মসজিদে প্রয়াত মুসল্লি ও এলাকাবাসীর রুহের মাগফিরাত এবং ইছালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাদ আসর ঝাউতলা জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ মাহফিলে মসজিদের দ্বীনি খেদমতে নিবেদিত মরহুম আবুল হোসেন, মরহুম মাওলানা আবু ছাবের, মরহুম আবদুল গফুরসহ প্রয়াত মুসল্লি ও এলাকাবাসীকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়।
দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ঝাউতলা জামে মসজিদের খতিব এবং কক্সবাজার ইসলামিয়া কামিল (মাস্টার্স) বালিকা মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজুল হক। এ সময় মরহুমদের জীবনের ভালো কাজ, ধর্মীয় অবদান এবং সমাজের প্রতি তাঁদের ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
মাহফিলে বক্তারা বলেন, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। একদিন প্রত্যেক মানুষকেই মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু মানুষের নেক আমল, দ্বীনের পথে অবদান এবং মানুষের কল্যাণে করা কাজ তাঁর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখে। তাই প্রয়াত ব্যক্তিদের স্মরণ করা, তাঁদের জন্য দোয়া করা এবং তাঁদের ভালো কাজ থেকে শিক্ষা নেওয়া আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্বের অংশ।
এলাকাবাসী ঝাউতলা জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁরা বলেন, যাঁরা জীবদ্দশায় মসজিদ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রেখেছেন, মৃত্যুর পরও তাঁদের যথাযথ সম্মান ও স্মরণ প্রাপ্য। অতীতে মরহুমদের স্মরণে এ ধরনের আয়োজন খুব একটা চোখে পড়েনি। তাই এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এতে প্রয়াতদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মও তাঁদের অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে এবং সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত হবে।
মাহফিলের শেষপর্বে অনুষ্ঠিত মোনাজাতে মহান আল্লাহর দরবারে সকল মরহুমের জীবনের ভুলত্রুটি ও গুনাহ ক্ষমা, নেক আমল কবুল এবং তাঁদের কবরকে প্রশস্ত ও নূরে পরিপূর্ণ করে দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের কবরের আজাব থেকে হেফাজত, হাশরের ময়দানে সহজ হিসাব এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিবের জন্য বিনম্র আরজি জানানো হয়।
মোনাজাতে মরহুমদের স্বজন, পরিবার-পরিজন এবং এলাকাবাসীর জন্যও কল্যাণ ও শান্তি কামনা করা হয়। মহান আল্লাহ যেন প্রয়াত সকল মুসল্লি ও এলাকাবাসীকে ক্ষমা করে তাঁদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন—এই প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দোয়া মাহফিল শেষ হয়।