মতামত | বিশ্লেষণ

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী: ভাষা ও জাতিসত্তার অগ্রদূতকে শ্রদ্ধাঞ্জলি

Copied
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী: ভাষা ও জাতিসত্তার অগ্রদূতকে শ্রদ্ধাঞ্জলি

সংগৃহীত ছবি

আজ ১৩ জুলাই বাংলা ভাষা, ভাষাবিজ্ঞান ও জাতীয় চেতনায় অনন্য অবদান রাখা প্রখ্যাত বহুভাষাবিদ, দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৬৯ সালের এই দিনে তিনি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলা ভাষার বিকাশ, গবেষণা এবং রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তাঁর অবদান আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই অবিভক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারাগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। বাংলা, আরবি, ফারসি, সংস্কৃত ও ইংরেজিসহ বহু ভাষায় তাঁর অসাধারণ দক্ষতা তাঁকে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানীর মর্যাদা এনে দেয়। বাংলা ভাষার ইতিহাস, উৎপত্তি ও বিকাশ নিয়ে তাঁর গবেষণা আজও ভাষাবিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচিত।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে তিনি দৃঢ় অবস্থান নেন। তাঁর যুক্তিনির্ভর বক্তব্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব পরবর্তী রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সেই ঐতিহাসিক উক্তি— “আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।” —আজও বাঙালির জাতীয় পরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর গবেষণা, প্রবন্ধ ও গ্রন্থসমূহ বাংলা ভাষার সমৃদ্ধ ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অনুপ্রাণিত করে।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছেন। মহান এই ভাষাসাধকের প্রতি সরকারি নিবন্ধিত জাতীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম কক্সবাজার কণ্ঠ পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। মহান আল্লাহ খ্যাতিমান ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।