দুর্গাপূজায় মদ-ডিজে বন্ধ, বড় পরিবর্তন আনছে শুভেন্দু সরকার
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজায় এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বিজেপি সরকার। পূজার আয়োজন, সরকারি অনুদান, সড়ক বন্ধ ও শব্দ ব্যবহারে নতুন নিয়ম জারি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো—বড় বাজেটের দুর্গাপূজায় আর সরকারি অনুদান দেওয়া হবে না। গত বছর তৃণমূল সরকার প্রতিটি পূজা কমিটিকে ১ লাখ ১০ হাজার রুপি করে অনুদান দিয়েছিল।
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোনো ধর্মীয় উৎসবের খরচ বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে যেসব পূজা কমিটি সরকারি আর্থিক সহায়তা ছাড়া পূজা আয়োজন করতে পারবে না, তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ রুপি করে দেওয়া হবে। যদিও এ ক্ষেত্রে পূজা কমিটিগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে।
তবে সাধারণ মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে অষ্টমীর ‘ড্রাই ডে’ ঘোষণা। দুর্গাপূজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন অষ্টমীতে মদ বিক্রি বন্ধ থাকবে।
এ ছাড়া পূজার কারণে বন্ধ করা যাবে না জাতীয় মহাসড়কও । কলকাতার ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কও পূজার জন্য বন্ধ রাখা যাবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পূজা ও বিসর্জনের দিন ডিজে বা উচ্চ শব্দের গানও নিষিদ্ধ থাকবে। সব পূজা কমিটিকে এসব নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তবে পূজা কমিটিগুলোর জন্য কিছু সুবিধাও থাকছে। পূজার জন্য বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে না। পাশাপাশি ফায়ার লাইসেন্সও বিনামূল্যে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দুর্গাপূজার সরকারি উদযাপনেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তৃণমূল সরকারের সময়ের প্রচলিত ‘কার্নিভাল’-এর পরিবর্তে এবার মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেনে চার ঘণ্টার বড় অনুষ্ঠান আয়োজন করবে বিজেপি সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অনুষ্ঠানে ড্রোন শো, আতশবাজিসহ নানা আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি শহরে রোডশোও করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিত থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, মহালয়ার অনুষ্ঠান নিয়ে বিজেপির একটি বিজ্ঞাপন ঘিরে ইতোমধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞাপনে ১১ হাতের দুর্গাপ্রতিমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এই ধরনের ছবি দুর্গাদেবী ও বাংলার সংস্কৃতিকে ‘তুচ্ছ’ করার শামিল।