পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশের মালিক ২০ কোটি মানুষ, তাদের জন্যই কাজ করছে সরকার
“করবো কাজ, গড়ব দেশ”—এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়; দেশের ২০ কোটি মানুষ। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব এবং সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খালটির পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে খালপাড়ে একটি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় হাজারো মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “পাতলী খাল পুনঃখনন শুধু একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়; এটি কৃষি, সেচব্যবস্থা, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।”
তিনি জানান, খালটির পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় সাড়ে আট হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সেচব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কৃষি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নগদ প্রণোদনা প্রদান করা হবে।
তিনি বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।”
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা আরও সহজলভ্য ও ব্যয়মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। হার্টের রিং, কিডনি ডায়ালাইসিসসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা উপকরণের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে রোগীরা কম খরচে চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।
জাতীয় বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি; বরং বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মদ ও সিগারেটের মতো ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ এটিকেও রাজনৈতিকভাবে সমালোচনা করা হচ্ছে।”
পাতলী খাল স্থানীয়ভাবে একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, পাতলী খাল ছিল তার অন্যতম অংশ। তিনি নিজে কক্সবাজারে এসে খালটির খননকাজের উদ্বোধন করেছিলেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন।
এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মাবুদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ও পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা এবং স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সব কর্মসূচি শেষে রাতে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।