অপরাধ

খোকন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

ধানক্ষেত নষ্ট করে সাইনবোর্ড সরিয়ে জমি দখলের চেষ্টা

ধানক্ষেত নষ্ট করে সাইনবোর্ড সরিয়ে জমি দখলের চেষ্টা

টেকনাফে ৩৫ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, ধানক্ষেত নষ্ট ও সাইনবোর্ড টাঙানোর অভিযোগ। ছবি কক্সবাজার কন্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ নেতা আমজাদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীর মালিকানাধীন ৩৫ শতক জমি দখলের চেষ্টায় সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকপক্ষের সাইনবোর্ড সরিয়ে অন্য পক্ষের সাইনবোর্ড টাঙানো, ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা ধানক্ষেত নষ্ট করা এবং চাষিকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, ২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বড়ডেইল মৌজায় আবদুল গফফার ও আবুল মনসুরের কাছ থেকে ৩৫ শতক জমি কিনে নেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মোহাম্মদ শাহ আলমের স্ত্রী সাবেরা আলম। পরে জমিটি তাঁর নামে খতিয়ানভুক্ত হয়। সংশ্লিষ্ট খতিয়ান নম্বর ১৫৬৬ বলে দাবি তাঁদের।

জমি কেনার পর থেকেই স্থানীয় ইসমত আরা সেখানে চাষাবাদ করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, গত ১২ আগস্ট চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকনের উপস্থিতিতে স্থানীয় মিজান ও আলী মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি ট্রাক্টর দিয়ে তাঁর চাষ করা ধানক্ষেত নষ্ট করে দেন। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে তাঁকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলেও জানান ইসমত আরা।

ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, একটি পক্ষ জমিটি নিজেদের দাগে পড়েছে দাবি করে দখলের চেষ্টা করছে। এ জন্য আদালতের আদেশ বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আশ্রয় না নিয়ে রাতের আঁধারে জমিতে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে বলেও তাঁদের দাবি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে খালেদা বেগমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠকে চট্টগ্রামের খালেদা বেগম লাকি উপস্থিত থাকলেও সাবেরা আলম উপস্থিত ছিলেন না। পরে জমিটি খালেদা বেগমকে বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন চেয়ারম্যান।

তবে চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি এভাবে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিতে পারেন কি না। এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাসহ একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী সাবেরা আলমের দাবি, বৈধভাবে কেনা জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে হয়রানি কিংবা জবরদখল ঠেকাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

স্থানীয়দের মতে, জমিটি নিয়ে বিরোধের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের রেকর্ড এবং সরেজমিনে দখল পরিস্থিতি যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি ধানক্ষেত নষ্ট ও সাইনবোর্ড সরানো বা টাঙানোর অভিযোগেরও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।