নেপালে বন্ধ উদ্ধার অভিযান, এখনো নিখোঁজ ৫২৮৫ জন
গত আগস্টে চীন-নেপাল সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে চালানো দীর্ঘ অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করেছে নেপাল সরকার। এই প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অন্তত ১,৪৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো পর্যন্ত ৫,২৮৫ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে হাজার হাজার দুর্গত মানুষের জরুরি সহায়তা ও দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দেশটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
নেপালের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় সৃষ্ট এক আকস্মিক ও শক্তিশালী ঢল থেকে এই মারাত্মক বন্যার সূত্রপাত হয়। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১,৪৫৫ জন প্রাণ হারানোর পাশাপাশি অন্তত ১৩,৭৯৫ জন মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিয়ে নেপালের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের প্রধান ফণীন্দ্র পাউডেল বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, সরকার এখন সন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পর্ব শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও সহায়তার পর্বে প্রবেশ করছে। তিনি আরও বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনরা যেন বিমা গ্রহণ, ব্যাংকঋণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনগত বিষয়াদি দ্রুত সম্পন্ন করতে পারেন, সে জন্য নিখোঁজদের আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণার আইনি প্রক্রিয়াও বিবেচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
একই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে দেশটির ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি জানান, এখন থেকে কর্তৃপক্ষ আর সক্রিয়ভাবে কোনো মৃতদেহের খোঁজে অনুসন্ধান চালাবে না। তবে সার্বিক পুনর্বাসন কাজ চলার সময় যদি কোনো লাশের অবশিষ্টাংশ, ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার হয়, তবে তা যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হবে। এর পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে কোনো উদ্ধার তৎপরতার প্রয়োজন দেখা দিলে তা অব্যাহত রাখা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এই ভয়াবহ বন্যার তাণ্ডবে কেবল মানুষের প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং নেপালের মূল অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঢলের তোড়ে দেশটির অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, অসংখ্য সড়ক, সেতু, কৃষিজমি এবং বিস্তীর্ণ লোকালয় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করা হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রাথমিক সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর সার্বিক পুনর্বাসনের জন্য দেশটির প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের বিশাল তহবিলের জরুরি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ