ভিনিসিয়ুসের জোড়ায় নকআউটে ব্রাজিল
আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা ব্রাজিলের বিপক্ষে শুরুতেই যেন খেই হারিয়ে ফেলে স্কটল্যান্ড। নিজেদের ভুলেই পিছিয়ে পড়ে তারা। সেখান থেকে স্কটিশদের আরও হতাশায় ডোবান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদে খেলা এই উইঙ্গারের জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত বড় জয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
বৃহস্পতিবার ভোরে বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। জোড়া গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। অন্য গোলটি মাথেউস কুনিয়ার।
এই জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিল ব্রাজিল। সমান ৭ পয়েন্ট পেয়েও গোলগড়ে পিছিয়ে থাকায় মরক্কো হয়েছে রানার্সআপ। তিন পয়েন্ট পাওয়া স্কটল্যান্ডকে আপাতত অপেক্ষাই করতে হচ্ছে। তিন ম্যাচের তিনটিতে হেরেছে হাইতি।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে এদিন এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ব্রাজিল। হাইতির বিপক্ষে খেলা রাফিনিয়ার জায়গায় শুরুর একাদশে রায়ানকে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
১৯ বছর ৩২৫ দিন বয়সে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে শুরুর একাদশে মাঠে নামেন রায়ান। এর আগে ১৯৭০ বিশ্বকাপে মার্কো আন্তোনিও যখন ব্রাজিলের হয়ে শুরুর একাদশে নেমেছিলেন তখন তাঁর বয়স ছিল ১৯ বছর ১২৮ দিন। তার পরই রায়ান প্রথম কিশোর হিসেবে আজ ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ ম্যাচে মূল একাদশে থাকার গৌরব অর্জন করলেন।
নিজের স্মরণীয় ম্যাচে ইমপ্যাক্ট ফেলতে বেশি সময় নেননি বোর্নমাউথে খেলা এই রাইট উইঙ্গার। সপ্তম মিনিটে ব্রাজিল যে লিড নেয় সেখানে তাঁর অবদান অনেকটাই বেশি।
ব্রাজিল লিডে প্রতিপক্ষের দায়ও কম নেই। স্কটিশ গোলকিপার অ্যাঙ্গাস গান বল ঠেলে দেন সামনে থাকা স্কট ম্যাককেনার কাছে। এই ডিফেন্ডার আর বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। তাঁর শটে রায়ানের পায়ে লেগে বল চলে যায় বক্সে থাকা ভিনিসিয়ুসের কাছে। সেখান থেকে সহজেই গোল করেন ২৫ বছর বয়সী লেফট-উইঙ্গার।
এই গোলে দারুণ এক কীর্তিও গড়েছেন ভিনিসিয়ুস। তৃতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল পেলেন তিনি। এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে এমন কিছু করেছিলেন রোনালদো এবং রিভালদো।
২২ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের গতির কাছে পরাস্ত হয়ে ম্যাচে দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ায় আশঙ্কায় পড়ে স্কটল্যান্ড। নিজেদের অর্ধে ডিফেন্ডার জ্যাক হেনড্রির কাছে থাকা বল পেছন থেকে দৌড়ে নিয়ন্ত্রণে নেন ভিনিসিয়ুস। এরপর গোলকিপারকে কাটিয়ে বল জালেও ঠেলে দেন। কিন্তু ভিএআর-এ ভিনিকে ফাউল ধরায় গোলটি বাতিল করা হয়।
৪৫ মিনিটে ছোট বক্স থেকে কাটব্যাক দিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেন ভিনিসিয়ুস। স্কটিশ ডিফেন্ডারদের বাধার মুখে একটুর জন্য কুনিয়া গোল পাননি।
তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সমর্থকদের ফের আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন সেই ভিনি। গিমারায়েসের দূরপাল্লার শটে লাফিয়ে বল ধরতে গিয়ে গ্লাভসে জমাতে পারেননি স্কটিশ গোলকিপার। দৌড়ে এসে হেডে জালে বল জড়ান ভিনিসিয়ুস। ২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
বিরতির পর ম্যাকটমিনের দারুণ হেড সহজেই গ্লাভসবন্দি করেন আলিসন বেকার। ৫১ মিনিটে সামনে থাকা একমাত্র গোলকিপারকে পরাস্ত করতে পারলে গোল পেতেন ভিনিসিয়ুস। তবে শট নেওয়ার আগে তাঁকে হ্যাটট্রিক বঞ্চিত করেন অ্যাঙ্গাস গান।
৬০ মিনিটে দারুণ এক গোলে ব্যবধান ৩-০ করেন কুনিয়া। তবে এই গোলে বেশি অবদান গিমারায়েসেরই বেশি। মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে কয়েকজনকে কাটিয়ে কুনিয়াকে দেন তিনিই।
৭২ মিনিটে গোলমুখের সামনে থেকে অবিশ্বাস্যভাবে জালের দেখা পাননি ম্যাকটমিনে, উড়িয়ে মারেন পোস্টের উপর দিয়ে। ম্যাচের শেষ দিকে আরও একবার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেনে তিনি।
ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য ৭৬ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার জুনিয়র। ৯০ মিনিটে গোলে শট নিয়েছিলেন নেইমার। যদিও গোলকিপার গানের জন্য এটি কঠিন ছিল না ধরা।
শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কার্লো আনচেলত্তির দল।