আইন-আদালত

মাদকদ্রব্য অপরাধ দমনে কক্সবাজারে সচল তিন ট্রাইব্যুনাল

মাদকদ্রব্য অপরাধ দমনে কক্সবাজারে সচল তিন ট্রাইব্যুনাল

এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি

পর্যটন জেলা কক্সবাজারকে মাদকের আগ্রাসন থেকে মুক্ত করার প্রাথমিক প্রয়াস হিসেবে কক্সবাজার বিচার বিভাগে তিনটি ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ সৃজন করা হয়েছে। এসব ট্রাইব্যুনালে শুধুমাত্র মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীনে দায়ের করা পাঁচ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য অপরাধের মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তবে নতুন এজলাস স্থাপনের ব্যবস্থা না থাকায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নিয়ন্ত্রণাধীন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১, ২ ও ৩-এর শাখায় এসব ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার বিচার বিভাগের জেলা নাজির এম. বেদারুল আলম।

সূত্র জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৪ থেকে জারি করা এক গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কক্সবাজারের তিনটিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মোট ২২টি ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ সৃজন করা হয়। একই সঙ্গে সৃজিত ট্রাইব্যুনালগুলোর বিচারিক অধিক্ষেত্রও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত অধিক্ষেত্র অনুযায়ী, কক্সবাজারের তিনটি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১-এ টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলার মাদকসংক্রান্ত অপরাধের মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ট্রাইব্যুনাল-২-এ উখিয়া, কক্সবাজার সদর ও ঈদগাঁও উপজেলার এবং ট্রাইব্যুনাল-৩-এ রামু, চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার মাদকসংক্রান্ত অপরাধের মামলার বিচার হবে।

কক্সবাজার জেলা বিচার বিভাগের বিভিন্ন আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীনে দায়ের করা পাঁচ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য অপরাধের প্রায় ছয় হাজার মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

কক্সবাজার বিচার বিভাগের জেলা নাজির এম. বেদারুল আলম বলেন, গেজেট প্রকাশের ৬০ দিনের মধ্যে নিয়মিত আদালতে বিচারাধীন পাঁচ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য অপরাধের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে দায়ের করা মামলাগুলো নতুন সৃজিত মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়মিত আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলো যে পর্যায়ে রয়েছে, সেই পর্যায় থেকেই ট্রাইব্যুনালে মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪৪(ক)-এর ২ ধারা অনুযায়ী, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারকরা নতুন সৃজিত মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এম. বেদারুল আলম আরও বলেন, নতুন সৃজিত মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারক, আইন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মচারী নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর আওতায় ট্রাইব্যুনাল-১, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর আওতায় ট্রাইব্যুনাল-২ এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৩-এর আওতায় ট্রাইব্যুনাল-৩-এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ইতোমধ্যে এসব ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মন্নান বলেন, কক্সবাজারসহ মাদক চোরাচালানপ্রবণ এলাকায় মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ায় এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হলে অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের কাছে সাজার একটি বার্তা যাবে এবং মাদক চোরাচালান কিছুটা হলেও সংকুচিত হয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।