চট্টগ্রাম

মিয়ানমারে পাচারের সময় ৯৬০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ

মিয়ানমারে পাচারের সময় ৯৬০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ

সাগরপথে মায়ানমারে পাচারের সময় ৯৭৫ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সাগরপথে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৯৭৫ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সার পরিবহনে ব্যবহৃত চারটি ট্রাক ও পাচারের জন্য উপকূলে প্রস্তুত রাখা একটি মাছ ধরার ট্রলার জব্দ করা হয়। তবে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের মূল হোতারা পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের বঙ্গোপসাগর উপকূলে অভিযান চালিয়ে এসব সার ও যানবাহন জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, ট্রাকচালক ইয়াছিন এবং শ্রমিক মো. মনির হোসেন ও মো. ইসমাইল। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ইয়াছিনকে ১ হাজার টাকা এবং মনির হোসেন ও ইসমাইলকে ২০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট থেকে চারটি ট্রাকে করে ইউরিয়া সারগুলো মিরসরাইয়ের বঙ্গোপসাগর উপকূলে নিয়ে আসা হয়। সারগুলো হাতিয়ায় নেওয়ার কথা বলা হলেও সাগরপথে মিয়ানমারে পাচারের জন্য উপকূলে আগে থেকেই একটি মাছ ধরার ট্রলার প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।

ট্রাক থেকে সারগুলো উপকূলে রাখা ওই ট্রলারে তোলার সময় টহলরত কোস্ট গার্ড সদস্যদের নজরে আসে। পরে অভিযান চালিয়ে সার, মাছ ধরার ট্রলার ও চারটি ট্রাক জব্দ করা হয়। এ সময় আটক ব্যক্তিরা সারের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, ট্রাকচালকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনটি ট্রাকে ৩০০ বস্তা করে এবং অপর একটি ট্রাকে ২০০ বস্তা সার ছিল। সে হিসাবে চারটি ট্রাকে মোট ১ হাজার ১০০ বস্তা সার থাকার কথা। তবে অভিযান শেষে ট্রাক ও ট্রলার মিলিয়ে ৯৭৫ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে ১২৫ বস্তা সার অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সার আটকের খবর পেয়ে মিরসরাইয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় জব্দ করা ৯৭৫ বস্তা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি ২৫ টাকা ধরে ১২ লাখ ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করা হয়। আটক তিনজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের বলেন, ‘ট্রলারে থাকা ১৭৫ বস্তা এবং ৪টি ট্রাকে থাকা ৮০০ বস্তা মোট ৯৭৫ বস্তা সার প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে প্রকাশ্য নিলামে ১২ লাখ ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা বিক্রি করা হয়েছে। সারের বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া ট্রাক ও ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। সার পাচারের সাথে জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণিত হলে ট্রাক ও ট্রলার মালিকদেরও বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

মিরসরাই কোস্ট গার্ডের পিওআর মোহাম্মদ রবিউল হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মায়ানমারে পাচারের জন্য অবৈধভাবে মিরসরাই উপকূলে নিয়ে আসা সারগুলো জব্দ করা হয়েছে। সাগরপথে চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘সাগরপথে পাচারের উদ্দেশ্যে সারগুলো চট্টগ্রাম থেকে মিরসরাইয়ে নিয়ে আসা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ট্রাকচালক কিংবা মাছ ধরার ট্রলার চালক কারো কাছেই সারের বৈধ কাগজপত্র ছিল না। উদ্ধার করা সার মিরসরাই উপজেলার জন্য বরাদ্দ করা সারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে তিনি জানান।