মূল্যস্ফীতি কমলেও স্বস্তি নেই, মজুরি বৃদ্ধির হার আরও কম
দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আগস্টে কিছুটা কমেছে। এ মাসে পণ্য ও সেবার গড় মূল্যবৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে। তবে একই সময়ে মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল এর চেয়ে কম। ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় পরিস্থিতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফেরেনি।
সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশের অর্থ হলো, ২০২৫ সালের আগস্টে কোনো পণ্য কিনতে ১০০ টাকা খরচ হলে একই পণ্য ২০২৬ সালের আগস্টে কিনতে গড়ে ১০৮ টাকা ২৬ পয়সা খরচ হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ওই পণ্যের গড় দাম বেড়েছে ৮ টাকা ২৬ পয়সা।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে তা কমেছে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে গত বছরের আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।
আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম। এ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে মাসিক ও বার্ষিক—দুই হিসাবেই খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। আগস্টে এ খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বেড়েছে।
অঞ্চলভেদেও মূল্যস্ফীতিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। আগস্টে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ০১ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশে।
শহরাঞ্চলে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ সময়ে শহরাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
এদিকে মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হারও কমেছে। বিবিএসের হিসাবে, জাতীয় পর্যায়ে আগস্টে মজুরি হার সূচকের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ।
গত বছরের আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি বছরের আগস্টে মজুরি যে হারে বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি ছিল তার চেয়ে শূন্য দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। ফলে গড় হিসাবে মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার চাপ এখনো বেশি রয়েছে।
খাতভিত্তিক হিসাবে, আগস্টে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। শিল্প খাতে এ হার ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। তিনটি প্রধান খাতের মধ্যে সেবা খাতেই মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল সর্বোচ্চ।
সব মিলিয়ে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে সামান্য কমতি এলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার কম থাকায় সাধারণ মানুষের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমেনি। বিবিএসের পরিসংখ্যানে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।