রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির আহ্বান ১৬ মিশনের
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিজেদের ঘরে ফেরার অধিকার রয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশে থাকা ১৬টি বিদেশি কূটনৈতিক মিশন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রোহিঙ্গা সংকটের নবম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানায় তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির নয় বছর পরও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তবে রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের কারণে বর্তমানে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতি নেই। প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় কূটনৈতিক মিশনগুলো।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইনে সংঘাত বৃদ্ধি, বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা এবং ত্রাণ ও বাণিজ্য কার্যক্রমে বাধার কারণে মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। এতে বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ছে।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর মাধ্যমে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ মোকাবিলা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন এবং মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে কূটনৈতিক মিশনগুলো। তাদের মতে, এসব সুযোগ পেলে রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে নিজেদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও সম্প্রদায় পুনর্গঠনে আরও সক্ষম হবে।
বিবৃতিতে রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী কূটনৈতিক মিশনগুলো হলো—কানাডা, ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, কসোভো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।