মতামত | বিশ্লেষণ

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা

শিক্ষক শামসুল আলম হত্যা মামলায় হুমকির অভিযোগ ভিত্তিহীন

শিক্ষক শামসুল আলম হত্যা মামলায় হুমকির অভিযোগ ভিত্তিহীন

প্রতীকী ছবি

গত ১ নভেম্বর দৈনিক আমাদের কক্সবাজার ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম কক্সবাজার নিউজ-এ প্রকাশিত ‘১২ বছরেও বিচার পাননি, শিক্ষকের স্ত্রীর আর্তনাদ’ এবং ‘টেকনাফে শিক্ষক হত্যার ১২ বছরেও বিচার হয়নি, কাঁদছেন স্ত্রী, হুমকি দিচ্ছে আসামিরা’ শীর্ষক সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা জানাচ্ছি আমরা।

প্রকাশিত সংবাদে আমাদের বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকি দেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, সংশ্লিষ্ট মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছি। কাউকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ঘটনার বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো, ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে স্থানীয় পশ্চিম মহেশখালীয়াপাড়া জামে মসজিদে আমাদের নিকটাত্মীয় মৃত শামসুল আলমের সঙ্গে জায়গাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সালিশকারক ফিরোজ চৌধুরীসহ স্থানীয় দুই থেকে তিন শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি হয়। এ সময় শামসুল আলম মসজিদের সীমানাপ্রাচীর অতিক্রম করার সময় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে মাথায় আঘাত পান বলে আমাদের দাবি। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন ও সালিশকারক ফিরোজ চৌধুরী তাঁর নিজস্ব সিএনজি গাড়িতে করে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরবর্তী সময়ে ওই রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর খবর আমরা জানতে পারি।

আমরা দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছি, আমাদের কেউ তাঁকে মারধর বা শারীরিকভাবে আক্রমণ করেননি। ঘটনাটি নিয়ে আমাদের বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

এ ঘটনায় আমাদেরসহ মোট ৩৫ জনকে আসামি করে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার প্রত্যাশা করছি।

অন্যদিকে, ঘটনার পর আমাদের ১০টি বসতবাড়ি ও দোকানপাটে লুটপাট চালিয়ে মালামাল নিয়ে যাওয়া হয় বলে আমাদের অভিযোগ। ওই ঘটনার পর থেকে আমরা নিজ নিজ এলাকায় ও বাড়িঘরে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছি না। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছি।

এ ছাড়া মামলার এজাহারের ৪ নম্বর আসামি আবদু শুক্কুর (পিতা: মো. হাসান) এবং ৭ নম্বর আসামি বদি আলম (পিতা: আনু মিয়া) ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য না থাকায় আমরা উদ্বিগ্ন। তাঁদের সন্ধানে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

পরিশেষে, প্রকাশিত সংবাদে আমাদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছে আমাদের এই বক্তব্য প্রকাশের অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশী।

সকলের পক্ষে প্রতিবাদকারী:
১. মাস্টার আব্দুল মাল, পিতা: মৃত গোলাম সোলতান
২. মহি উদ্দিন, পিতা: মৃত ইলিয়াছ
৩. জালাল উদ্দিন, পিতা: মোহাম্মদ শফি (প্রকাশ ছবি)