সংবিধান সংস্কার না হলে রাজপথেই হবে সমাধান: গোলাম পরওয়ার
সংবিধান সংস্কার না হলে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান রাজপথেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে শুধু সংশোধনের কথা বলা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদ পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের পথ উন্মোচিত হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি হওয়া আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে সে সিদ্ধান্ত হয়। তার ভাষ্য, ওই গণভোটে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে মত দিয়েছেন। সেই গণরায় অস্বীকার করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, একই ভোটে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলে একটি মেনে অন্যটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সংসদে সংবিধান সংস্কার না হলে এ সমস্যার সমাধান রাজপথেই হবে।
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে শুধু সংশোধনের কথা বলা জাতির সঙ্গে প্রতারণার সামিল। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান পরিষদ গঠন এবং সংসদের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করা হলে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা আবারও রাজপথে নামবে বলেও সতর্ক করেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদদের মধ্যে শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও তাদের অনেকেই এখনো বৈষম্যের শিকার। তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নম্রতাকে দুর্বলতা মনে করলে ভুল হবে। তিনি ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিও জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার পাঁচ মাসেও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করতে পারেনি। সাড়ে ১২ হাজার টাকা মজুরিতে একটি শ্রমিক পরিবারের জীবনযাপন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আন্দোলনের আহ্বান জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খাঁন, গোলাম রব্বানী, কবির আহমদ, মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, আব্দুস সালাম, মাওলানা মুহিবুল্লাহ, আক্তারুজ্জামান, নুরুল আমিন, সোহেল রানা মিঠু, জামিল মাহমুদ, আবু রায়হান ও এ এইচ এম আতিকুর রহমানসহ অন্য নেতারা।