সংস্কৃতিচর্চা শরীরকে রাখতে পারে আরও তরুণ, নতুন গবেষণায় ইতিবাচক ইঙ্গিত
জাদুঘর ঘুরে দেখা, থিয়েটারে নাটক উপভোগ করা, সিনেমা দেখা কিংবা কনসার্টে অংশ নেওয়া—এসব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শুধু বিনোদনই নয়, সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবনের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। নতুন এক গবেষণায় এমনই ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে।
Journal of Epidemiology and Community Health-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন, তাদের শারীরবৃত্তীয় (Biological/Physiological) বয়স একই বয়সী অন্যদের তুলনায় গড়ে প্রায় তিন বছর কম হতে পারে। গবেষকদের মতে, সংস্কৃতিচর্চা মানসিক সুস্থতা, সামাজিক যোগাযোগ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে, যা শরীরের বার্ধক্যের গতি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণাটি ইংল্যান্ডের ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় দুই হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের জাদুঘর, থিয়েটার, সিনেমা বা অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে তাদের স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সূচক—যেমন হাঁটার গতি, হাতের শক্তি, রক্তের কোলেস্টেরল এবং শরীরের ভরসূচক (BMI)—তুলনা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, যারা নিয়মিত সংস্কৃতিচর্চায় যুক্ত ছিলেন, তাদের শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি সুস্থ ছিল।
গবেষকদের ভাষ্য, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানুষের মানসিক চাপ কমাতে, একাকীত্ব দূর করতে, সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করতে এবং সক্রিয় জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে সাহায্য করে। এসব বিষয় একসঙ্গে কাজ করে সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে গবেষণাটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক হওয়ায় এটি নিশ্চিত করে না যে সংস্কৃতিচর্চাই সরাসরি বার্ধক্য কমিয়ে দেয়। বরং সুস্থ মানুষরাও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বেশি অংশ নিতে পারেন—এ সম্ভাবনাও গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন।
University College London (UCL)-এর আরেকটি গবেষণাতেও একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা গেছে, নিয়মিত শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চায় অংশগ্রহণকারীদের জৈবিক বার্ধক্যের গতি ধীর হতে পারে। গবেষকদের মতে, সংগীত, বই পড়া, চিত্রকলা বা জাদুঘর ভ্রমণের মতো কার্যক্রম মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও উন্নত করে।
গবেষকদের মতে, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়ামের মতোই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও সুস্থ জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তবে এটি ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বা চিকিৎসার বিকল্প নয়; বরং সেগুলোর পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।