তথ্যপ্রযুক্তি

সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়ছে, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় সতর্কতা

Copied
সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়ছে, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় সতর্কতা

ছবি : সংগৃহীত

ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলা, ফিশিং, তথ্য চুরি এবং অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। ব্যক্তিগত তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট কিংবা অনলাইন ব্যাংকিং সেবা নিরাপদ রাখতে সচেতনতা এবং সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা সতর্ক করেছে, সাইবার অপরাধীরা এখন শুধু ইমেইল নয়, বরং মেসেজিং অ্যাপ, ভিডিও মিটিং প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও ফিশিং হামলা চালাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহারের কারণে এসব প্রতারণামূলক বার্তা আগের চেয়ে আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রের Cybersecurity and Infrastructure Security Agency (CISA) বলছে, শুধু শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) চালু করলে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। সংস্থাটি বিশেষ করে ইমেইল, ক্লাউড স্টোরেজ, অনলাইন ব্যাংকিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে MFA ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

বিশ্বখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ Bruce Schneier-এর একটি বহুল উদ্ধৃত বক্তব্য হলো, "Security is a process, not a product." অর্থাৎ, নিরাপত্তা কোনো একবারের ব্যবস্থা নয়; বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার, সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা এবং নিরাপত্তা সেটিংস পর্যালোচনা করা জরুরি।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পাঠানো ইমেইল, এসএমএস বা মেসেজে থাকা লিংকে ক্লিক করার আগে অবশ্যই যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো বা পুরস্কারের লোভ দেখানো বার্তাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।

এ ছাড়া পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে অনলাইন ব্যাংকিং বা সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান না করা, নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ব্যাকআপ রাখা এবং অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক কার্যক্রম দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নিরাপদ অনলাইন অভ্যাস গড়ে তোলাই সাইবার ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।