বিশেষ সংবাদ

সাদেকা হালিমসহ ঢাবির ৩ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

Copied
সাদেকা হালিমসহ ঢাবির ৩ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

সাদেকা হালিম। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

বিভিন্ন অভিযোগ আমলে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একইসঙ্গে আরও দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি চার শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

সাদেকা হালিম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনসহ বিভিন্ন অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্ত অন্য দুই শিক্ষক হলেন নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আফরোজা শেলী। বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক সাদেকা হালিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

সাদেকা হালিম সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না। অন্যান্য ছয় অধ্যাপকও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী কার্যক্রম, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারবিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল মুহিতকে বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার)কেও সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম এবং এমফিল ও পিএইচডি গবেষণাপত্রে সাদৃশ্যজনিত চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, অফিস শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সিন্ডিকেট সভায় ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাইয়ে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিনকে ওই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত উচ্চশিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) আওতায় পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রম এবং প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সিন্ডিকেট সভায় জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তও হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ ছাড়া প্রশাসনিক ভবনের পাশে মলচত্বরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট স্মৃতিস্তম্ভটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে।