অনিয়ম ও দুর্নীতি

সার ডিলার নিয়োগে সচিবালয়ে এমপি-নেতাদের দৌড়ঝাঁপ

সার ডিলার নিয়োগে সচিবালয়ে এমপি-নেতাদের দৌড়ঝাঁপ

ছবি। এআই

নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক তদবির, প্রভাব খাটানো, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও ডিলার প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের তদবিরেরও অভিযোগ রয়েছে। 

কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনো চূড়ান্ত নিয়োগ হয়নি। আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই চলছে। রাজনৈতিক সুপারিশের ভিত্তিতে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ৪ হাজার ৯৩১টি নতুন সার ডিলার নিয়োগের বিপরীতে ৪৬ হাজার ৯৫৫টি আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ প্রতি ডিলারশিপের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৯টি আবেদন রয়েছে। গত ২৭ আগস্ট নতুন সার ডিলার নিয়োগের নীতিমালা প্রকাশ করা হয় এবং ১০ সেপ্টেম্বর আবেদন গ্রহণের সময় শেষ হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর উপজেলা পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনজন যোগ্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা হবে। এরপর জেলা পর্যায়ে যাচাই শেষে প্রস্তাবিত তালিকা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পছন্দের প্রার্থীকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও ১৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের দাবি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকা ও অডিও নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিপুলসংখ্যক আবেদন থাকায় যাচাই-বাছাইয়ে সময় লাগছে। মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে প্রচারিত কোনো তালিকাকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

কৃষি সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত যোগ্যতা ও নীতিমালাই হবে ডিলার নির্বাচনের মূল ভিত্তি। রাজনৈতিক সুপারিশ বা তদবিরকে যোগ্যতার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। অর্থ লেনদেনের নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।