উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ, জনসভা ও সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন
সৈকত নগরীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন আজ, কক্সবাজারে বাড়ছে জনআগ্রহ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ (শনিবার) কক্সবাজার সফরে আসছেন। দিনব্যাপী এ সফরে তিনি স্থানীয় পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, রাজনৈতিক জনসভা এবং সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কোনো ধরনের তোরণ নির্মাণ না করার জন্য দলীয়ভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে জনসমাগমের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে জোর প্রস্তুতি চলছে পুরো জেলায়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সার্বিক প্রস্তুতি তদারকি করতে গতকাল শুক্রবার কক্সবাজারে পৌঁছেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন।
বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায়ও বক্তব্য রাখবেন। পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
এ ছাড়া তিনি গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ মো. ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করবেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বিকেলে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত রাজনৈতিক জনসভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরের পরবর্তী পর্যায়ে তিনি মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। এর আগে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং মাতামুহুরি উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। রাতে কক্সবাজার শহরের লং বিচ হোটেলের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন। কর্মসূচি শেষে রাতেই কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি যাচাই করতে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন সরকারের ছয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
কক্সবাজারে পৌঁছে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তারা প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উদ্বোধনী ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনস্থল, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির স্থান, রাজনৈতিক জনসভা এবং সুধী সমাবেশের ভেন্যু পরিদর্শন করেন।
এর আগে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীও নির্ধারিত কর্মসূচির স্থানগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সফল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে এ সফর স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আমরা আশা করছি।”
অন্যদিকে কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, পর্যটন নগরীকে পরিকল্পিত আধুনিক পর্যটন শহরে রূপান্তর এবং পান, লবণ ও মৎস্য শিল্পের আধুনিকায়ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে।
পাশাপাশি ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরছেন স্থানীয়রা।