আন্তর্জাতিক

মার্কিন নির্বাচনের আগে হরমুজ প্রণালিতে কৌশল বদলাচ্ছে ইরান

মার্কিন নির্বাচনের আগে হরমুজ প্রণালিতে কৌশল বদলাচ্ছে ইরান

ওমান উপসাগরে চীনের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজ। ছবি: এএফপি

ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হামলা চালাতে নতুন কৌশল নিচ্ছে। এর লক্ষ্য বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া রেখে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলা। দেশটির দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে এমন তথ্য জানিয়েছেন।

ওই দুই কর্মকর্তা নতুন কৌশলটির বিস্তারিত তথ্য দিতে চাননি। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে একটি ধারণা দিয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, প্রায় ১০ দিন আগে থেকে নতুন আক্রমণাত্মক কৌশল ব্যবহার শুরু হয়েছে। যেসব জাহাজ বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করছে বলে মনে করা হবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে নতুন কৌশল প্রয়োগ হবে।

ইতোমধ্যে কৌশলটি প্রয়োগের কারণে হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও জানান ওই ইরানি কর্মকর্তা। রয়টার্সে বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে অন্তত ৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ড্রোন হামলাও ছিল।

হামলার তথ্যগুলো দিয়েছে ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। আর জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, ৩ থেকে ৫ অক্টোবরের তুলনায় হামলার হার বেড়েছে। এটি ওই অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরানি দুই কর্মকর্তার মধ্যে একজন বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা চেষ্টা চালাচ্ছে। ইরানের লক্ষ্য সেটি নস্যাৎ করে দেওয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব থেকে নতুন এই কৌশল গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুরো শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

হামলার নতুন কৌশলের বিষয়টি নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের আগে তিনি নতুন হামলার অনুমতি দেবেন না।

‘স্পটার’ ব্যবহার করছে ইরান
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইরান কৌশল পরিবর্তন করেছে। তাদের রাডার ব্যবস্থাগুলোর বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস করে দিয়েছিল। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এখন ছোট নৌকায় করে নিরস্ত্র পর্যবেক্ষক বা ‘স্পটার’ ব্যবহার শুরু করেছে। স্পটাররা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজসহ অন্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করছে।

ওই কর্মকর্তা গত সপ্তাহের অপ্রকাশিত একটি ঘটনার উদাহরণ দেন। তিনি জানান, ওই ঘটনায় মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত হয় যে, ইরানি স্পটাররা পালতোলা নৌকা থেকে কাজ করছে। আইআরজিসির কাছে এসব নৌকা থেকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তথ্য পাঠানো হচ্ছিল। পরে মার্কিন বাহিনী নৌকাটির পথরোধ করে আরোহীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে ইরান যুদ্ধ ও এর পেছনে হওয়া খরচ অন্যতম বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধ অবসানের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা; বৈশ্বিক বাজারেও অস্থিরতা জিইয়ে রেখেছে।

ইরানের ওই দুই কর্মকর্তার একজন বলেন, খুব শিগগিরই এটি (প্রণালি) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) জানিয়েছে, প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকি এখনও ‘মারাত্মক’ পর্যায়ে আছে।