গাছ উজাড় করে বালিয়াড়ি দখল, নাজিরারটেকে রাতারাতি বসতি নির্মাণ
কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরারটেক জিরো পয়েন্ট এলাকায় রাতের আঁধারে কয়েক হাজার গাছ কেটে বালিয়াড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে। শুধু দখল নয়, দখল করা জমি খণ্ড খণ্ড করে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। এরই মধ্যে দখল করা জায়গা কিনে সেখানে ৮ থেকে ১০টি বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নাজিরারটেকের বালিয়াড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। সুযোগ বুঝে বালিয়াড়ির গাছ কেটে জায়গা পরিষ্কার করে প্রথমে দখলে নেওয়া হয়। পরে সেই জমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এক রাতেই বিপুলসংখ্যক গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘ফরেস্টার’ নামে পরিচিত কালা মানিক এবং যুবলীগ সভাপতি মোস্তাক, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘ফরেস্টার মোস্তাক’ নামে পরিচিত,সহ কয়েকজন এই দখল প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বালিয়াড়ি দখল, গাছপালা উজাড় এবং দখল করা জায়গা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া কায়সার, এমরান, জাফর, আলী হোসাইন ও কাদেরসহ আরও কয়েকজন দখল করা জমি কিনে সেখানে বসতি নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, বালিয়াড়ি দখল ও বিক্রির পেছনে শুধু স্থানীয় একটি চক্র নয়, রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলেরও আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে। দখলদাররা প্রভাবশালীদের অর্থের ভাগ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাজিরারটেকের বালিয়াড়ি উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বিচারে গাছ কেটে বালিয়াড়ি দখল ও বসতি নির্মাণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ এলাকার পরিবেশগত ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কার অনুমতি বা আশ্রয়ে এক রাতের মধ্যে হাজার হাজার গাছ কেটে বালিয়াড়ি দখলের সুযোগ তৈরি হলো? দখল করা জমি কীভাবে বিক্রি হচ্ছে এবং সেখানে কীভাবে একের পর এক বসতঘর নির্মাণের সুযোগ তৈরি হলো-এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, গাছ নিধন ও বালিয়াড়ি দখলের অভিযোগ তদন্ত, দখলদারদের শনাক্তকরণ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দখল ও গাছ নিধনের নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের কার্যকর নজরদারি না থাকলে নাজিরারটেকের অবশিষ্ট বালিয়াড়ি ও সবুজভূমিও দ্রুত দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।