মতামত | বিশ্লেষণ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিক হুমায়ুন সিকদারের খোলা চিঠি

প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিক হুমায়ুন সিকদারের খোলা চিঠি

প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিক হুমায়ুন সিকদারের খোলা চিঠি : ছবি কক্সবাজার কন্ঠ

বিষয়: দেশের উন্নয়ন, জনস্বার্থ সংরক্ষণ ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র পরিচালনায় কিছু নাগরিক প্রস্তাব

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আসসালামু আলাইকুম।
আশা করি ভালো আছেন।
সবিনয়ে কিছু নাগরিক প্রস্তাব আপনার সমীপে তুলে ধরছি।

দেশ পরিচালনার মূল দায়িত্ব হলো জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলা। একটি সরকারের পক্ষে এককভাবে দেশের সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই জাতীয় স্বার্থে সরকার, বিরোধী দল, পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী, কৃষক-শ্রমিক, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পরামর্শভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে দেওয়া ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতিগুলোকে শুধু রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার হিসেবে নয়, জনগণের প্রত্যাশা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, অগ্রগতি প্রকাশ এবং জনসম্মুখে জবাবদিহি নিশ্চিত করা যেতে পারে। বর্তমান সরকারও ১৮০ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইতোমধ্যে Family Card, Farmer Card, Notun Kuri, Sports Card ও Sports Allowance-এর মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। Family Card-এর পাইলট কর্মসূচি এবং কৃষকদের জন্য Farmer Card চালুর কথা সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে Notun Kuri পুনরায় চালু এবং ক্রীড়া ভাতা দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

এসব উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার পাশাপাশি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনার জন্য বিনীতভাবে প্রস্তাব করছি—

১. সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয়
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের নিয়মিত সংলাপের ব্যবস্থা করা।
সংসদীয় কমিটিগুলোকে আরও কার্যকর ও ক্ষমতাবান করা।
জাতীয় বাজেট, জ্বালানি, খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও বড় উন্নয়ন প্রকল্পে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া।
গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নীতি প্রণয়নের আগে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত গ্রহণ করা।
স্থানীয় জনগণের মতামতকে উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ করা।
২. নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ‘জনগণের কাছে অগ্রগতি প্রতিবেদন’

ছয় মাস বা এক বছর পরপর ‘ইশতেহার বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন’ প্রকাশ করা যেতে পারে। এতে কোন প্রতিশ্রুতির কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনটি বাস্তবায়নাধীন এবং কোন ক্ষেত্রে বাধা রয়েছে—তা জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

৩. তেল, গ্যাস, সার ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার
নিম্নআয়ের মানুষের ওপর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকির ব্যবস্থা করা।
কৃষি, গণপরিবহন ও অতিপ্রয়োজনীয় খাতে বিশেষ সহায়তা দেওয়া।
গ্যাস অনুসন্ধান ও দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো।
জ্বালানি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বচ্ছ ক্রয়নীতি গ্রহণ করা।
সৌরশক্তিসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থায় অপচয় কমানো।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বড় চুক্তিতে স্বচ্ছতা ও জনজবাবদিহি নিশ্চিত করা।

বর্তমান সরকারের ঘোষিত উদ্যোগের মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য এবং জনস্বার্থে জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয় রয়েছে।

৪. সার, বীজ ও কৃষি উপকরণে কৃষকের সুরক্ষা
কৃষকের জন্য ভর্তুকি সরাসরি কার্ডের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া।
ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক নিশ্চিত করা।
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয় বাড়ানো।
কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ডস্টোরেজের সংখ্যা বাড়ানো।
কৃষক ও ভোক্তার মাঝখানে অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমানো।
কৃষিঋণে সহজ শর্ত এবং ফসলবিমা সম্প্রসারণ করা।
৫. চাঁদাবাজি, দখল, অপহরণ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।
ভূমি ও জলাশয় দখলমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।
অপহরণ ও মানবপাচার প্রতিরোধে বিশেষায়িত তদন্ত ব্যবস্থা জোরদার করা।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
অপরাধী যে পরিচয়েরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা।
থানায় মামলা ও সাধারণ ডায়েরি গ্রহণে হয়রানি বন্ধ করা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি ও পেশাদারিত্ব বাড়ানো।
৬. খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরাপত্তা
চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি ও প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
নিম্নআয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক খাদ্য সহায়তা বাড়ানো।
দেশীয় উৎপাদন পর্যাপ্ত থাকলে অপ্রয়োজনীয় আমদানির কারণে স্থানীয় উৎপাদক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করা।
৭. স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক জনসেবা হিসেবে শক্তিশালী করা
প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিশ্চিত করা।
সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে আইসিইউ, ডায়ালাইসিস, ক্যানসার ও হৃদরোগের চিকিৎসা সম্প্রসারণ করা।
অ্যাম্বুলেন্স সেবা উন্নত করা।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স ও সেবার মান নিয়মিত পরিদর্শন করা।
হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্র বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
দরিদ্র মানুষের জন্য চিকিৎসা সহায়তা কার্ড চালু করা।
৮. শিক্ষা ও তরুণদের কর্মসংস্থান
প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা।
তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া।
স্থানীয় পণ্যভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলা।
বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ বাড়ানো।
মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি সম্প্রসারণ করা।
৯. উপকূল রক্ষায় জাতীয় কর্মসূচি
ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার ও টেকসই করা।
প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিতে থাকা কুতুবদিয়ার চারপাশে টেকসই Super Dyke নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া।
নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
উপকূলীয় খাল পুনঃখনন করা।
ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র আধুনিকীকরণ করা।
নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা।
লবণচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আমদানি নীতিতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া।
১০. পর্যটন শিল্পের আধুনিকায়ন
কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা।
সৈকত ও বালিয়াড়ি সংরক্ষণ করা।
আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও লাইফগার্ড ব্যবস্থা জোরদার করা।
পর্যটন পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
পর্যটন এলাকায় যানজট নিরসনে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
স্থানীয় জনগণকে পর্যটন অর্থনীতির অংশীদার করা। কক্সবাজার, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনকে সমন্বিত পর্যটন পরিকল্পনার আওতায় আনা।
১১. নদী, খাল ও বিল পুনরুদ্ধার

বর্তমান সরকারের ঘোষিত ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল পুনঃখননের উদ্যোগকে শুধু খননকেন্দ্রিক না রেখে দখলমুক্তকরণ, পানিপ্রবাহ পুনঃস্থাপন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সমন্বিত করা প্রয়োজন।

১২. দুর্নীতি প্রতিরোধে ডিজিটাল ব্যবস্থা
সরকারি সেবার অধিকাংশ প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়া।
টেন্ডার ও সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
প্রকল্পের ব্যয় ও অগ্রগতি অনলাইনে প্রকাশ করা।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবার মান মূল্যায়নে নাগরিক মতামত গ্রহণ করা।
দুর্নীতির অভিযোগের দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।
১৩. ‘এক পরিবার, একটি নিরাপত্তাবলয়’ গড়ে তোলা

একটি পরিবারের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে—
খাদ্য;
চিকিৎসা;
শিক্ষা;
কর্মসংস্থান;
বাসস্থান;
দক্ষতা উন্নয়ন

—এসব সুবিধাকে সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনা যেতে পারে।

১৪. প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের জন্য বিশেষ কর্মসূচি
প্রবীণ ভাতা বৃদ্ধি ও সহজপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
অসহায় মানুষের জন্য চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা।
এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টি সহায়তা বাড়ানো।
প্রত্যন্ত এলাকায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা।
১৫. খেলাধুলাকে জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা

Notun Kuri, Sports Card ও Sports Allowance-এর মতো উদ্যোগকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করা যেতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন কুঁড়ি কর্মসূচিতে এবার খেলাধুলা ও কোরআন তিলাওয়াতও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ক্রীড়া ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি—
প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ;
প্রতিটি জেলায় আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স;
প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য বৃত্তি;
স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা;
খেলোয়াড়দের চিকিৎসা ও বিমা;
নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা যেতে পারে।
১৬. ‘আমার গ্রাম—আমার অর্থনীতি’ কর্মসূচি
প্রতিটি ইউনিয়নের স্থানীয় সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সম্ভাবনাভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে গ্রামেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যেতে পারে। এতে শহরমুখী মানুষের চাপ কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
১৭. গণমাধ্যম ও তথ্যের স্বাধীনতা
জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে—
তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করা;
সরকারি দপ্তরের তথ্য দ্রুত প্রকাশ;
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত;
সরকারি তথ্যের ডিজিটাল উন্মুক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
১৮. উন্নয়ন প্রকল্পে ‘জনগণের মতামত’
বড় প্রকল্প গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণ, জনপ্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সংগঠনের মতামত গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, ব্যয় ও বাস্তবায়নযোগ্যতা সম্পর্কে আগেই বাস্তব ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

১৯. জাতীয় ঐকমত্যের কয়েকটি ক্ষেত্র নির্ধারণ
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও অন্তত—
জাতীয় নিরাপত্তা;
খাদ্য নিরাপত্তা;
জ্বালানি নিরাপত্তা;
শিক্ষা;
স্বাস্থ্য;
কর্মসংস্থান;
দুর্নীতি দমন;
আইনশৃঙ্খলা;
জলবায়ু ও উপকূল রক্ষা;
অর্থনৈতিক উন্নয়ন

—এসব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

সরকার পরিবর্তন হতে পারে, রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু দেশ, জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ স্থায়ী। তাই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতা, মতামত গ্রহণ এবং পারস্পরিক জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে কৃষক তাঁর উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন, শ্রমিক সম্মানজনক মজুরি পাবেন, তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন, রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবেন, শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা পাবে, ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করতে পারবেন, নারীরা নিরাপদ থাকবেন, উপকূলের মানুষ টেকসই বাঁধ ও নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা পাবেন এবং পর্যটন অঞ্চলগুলো পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠবে।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হোক—
দল নয়, দেশ;
প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন;
উন্নয়ন নয় শুধু, টেকসই উন্নয়ন;
ক্ষমতা নয়, জবাবদিহি;
এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয় শুধু, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আপনার সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলো আরও সম্প্রসারিত, কার্যকর ও জনবান্ধব হোক—এটাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা।

বিনীত,
সাংবাদিক হুমায়ুন সিকদার
একজন সচেতন নাগরিক
কক্সবাজার, বাংলাদেশ।