টেকনাফে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিল যুব সংগঠন
টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়া, কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নলকূপ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এলাকায় নিরাপদ পানীয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন SHAY (Support for Humanitarian Aid Youth Society), JYDA Bangladesh ও Youth Peacebuilders যৌথভাবে ActionAid Bangladesh-এর সহায়তায় জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে।
দুর্যোগের শুরু থেকেই যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা ও অন্যান্য মানবিক অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছেন। তারা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, সীমিত পরিসরে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ, পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি চাহিদা নিরূপণের কাজ করছেন।
বর্তমানে অনেক পরিবার নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও রান্না করা, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ এবং ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি বিপদে রয়েছে।
SHAY-এর প্রতিনিধি আলম মুহাম্মদ রাসেল বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে আমরা দেখেছি, মানুষ তাদের পানিতে ডুবে থাকা ঘরবাড়ি দেখাচ্ছেন। প্রায় সবার একই অনুরোধ—‘আমাদের নলকূপ ডুবে গেছে, নিরাপদ খাওয়ার পানি দিন।’ এই বাস্তবতা আমাদের আরও দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।”
জরুরি সাড়া কার্যক্রমের প্রথম ধাপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০টি পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন মানুষের কাছে শুকনো খাবার, নিরাপদ পানীয় পানি, জরুরি ত্রিপল, ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ওআরএস) এবং নারী ও কিশোরীদের জন্য ডিগনিটি কিট বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখবেন।
যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলো জানিয়েছে, চলমান বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান, মানবিক সংস্থা, দাতা ও উন্নয়ন সহযোগীদের দ্রুত ও সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে সময়মতো জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।