আন্তর্জাতিক

ইরানকে বাদ দিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্ভব নয়: তেহরান

Copied
ইরানকে বাদ দিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্ভব নয়: তেহরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের আলোচনার মধ্যে বিশ্বমঞ্চে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে বাইরে রেখে বা উপেক্ষা করে এই অঞ্চলে কোনো স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে লেবাননের বৈরুতে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশটি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রস্তাবিত নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই অঞ্চলের সব দেশের অংশগ্রহণ থাকা আবশ্যক বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেবল ‘সমষ্টিগত সহযোগিতা’ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই গড়ে উঠতে পারে।

এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, “ইরানকে বাদ দিয়ে বা আড়ালে রেখে এই অঞ্চলে কোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা অবাস্তব।” তিনি আরও বলেন, “অঞ্চলের দেশগুলো এখন ধীরে ধীরে এই সত্য উপলব্ধি করতে পারছে যে—অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ইরানসহ সব দেশের অভিন্ন স্বার্থকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।”

এদিকে, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়ায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তিনি এই ঘটনার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। ঘালিবাফের মতে, এই হামলা প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র হয় তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার সদিচ্ছা হারিয়েছে, না হয় তা বাস্তবায়নের ন্যূনতম সক্ষমতা তাদের নেই।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানের এই শীর্ষ নেতা লেখেন, “ইসরায়েলি সরকারকে আড়ালে সবুজ সংকেত দিয়ে মুখে শান্তির কথা বলা যাবে না। বিশ্বরাজনীতিতে এই ‘ভালো পুলিশ, দুষ্ট পুলিশ’ (গুড কপ, ব্যাড কপ) খেলার দিন এখন শেষ।” তিনি মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশে আরও বলেন, “আপনাদের যদি প্রতিশ্রুতি রক্ষার সদিচ্ছা বা ক্ষমতা কোনোটিই না থাকে, তবে এই পুরোনো পথ আঁকড়ে ধরে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

মূলত বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলার পরই এমন কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন ঘালিবাফ। উল্লেখ্য, ইসরায়েলি ওই হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন, যা ওই অঞ্চলের যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে আরও একবার বড় ধরনের ধাক্কা দিল।