কক্সবাজার

প্রশাসনের সতর্কতা জারি

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৯ জন নিহত, আহত ৩

Copied
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৯ জন নিহত, আহত ৩

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতায় ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয়রা।

টানা ভারি বর্ষণের কারণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করছে উপজেলা প্রশাসন।

প্রথম ঘটনা ঘটে সোমবার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।

এর কিছুক্ষণ পর রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

সর্বশেষ রাত ৩টার দিকে উপজেলার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

নিহতরা হলেন, আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং তার ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।

অন্যদিকে, সোমবার ভোর ৪টার দিকে উখিয়ার ছাত্তারের ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর (৪৫) নিহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ের একটি অংশ তার বসতঘরের ওপর ধসে পড়লে তিনি ও পরিবারের তিন সদস্য মাটিচাপা পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, “ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

এদিকে, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০১ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী আরও দুই/ তিন দিন ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।