কক্সবাজার

জেলা কারাগারের পাশে নীরবে দখল হচ্ছে সরকারি সম্পদ

Copied
জেলা কারাগারের পাশে নীরবে দখল হচ্ছে সরকারি সম্পদ

কক্সবাজার জেলা কারাগারের পশ্চিম পাশে দেয়ালঘেঁষা মাটিয়াতলী এলাকায় খাসজমি ও পাহাড় দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের পশ্চিম পাশে দেয়ালঘেঁষা মাটিয়াতলী এলাকায় সরকারি খাসজমি ও পাহাড় দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় কেটে ও মাদারট্রি গাছ নিধন করে সেখানে একের পর এক স্থাপনা ও কথিত অপরাধীদের আস্তানা গড়ে তোলা হচ্ছে। এমনকি প্রশাসনের তৎপরতা সম্পর্কে আগাম জানতে বিভিন্ন গাছে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে ওই এলাকায় প্রবেশকারীদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করা হলে মাটিয়াতলী এলাকা ভবিষ্যতে ‘দ্বিতীয় জঙ্গল সলিমপুরে’ পরিণত হতে পারে। তাদের অভিযোগ, ইতোমধ্যে পাহাড় কেটে মাটি ও খণ্ড খণ্ড জায়গা বিক্রি, গাছ নিধন এবং মাদক ও অস্ত্র কারবারিদের জন্য আস্তানা তৈরির কার্যক্রম চলছে। এতে ওই এলাকার পরিবেশ, সরকারি সম্পদ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শামশু সওদাগরের ছেলে শাহাবুদ্দিন ও আবদুল আজিজের নেতৃত্বে শহিদ, সাহেদ ও আবু তাহেরসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে একাধিক সিন্ডিকেট এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাদের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটা, সরকারি জমি দখল, মাদারট্রি গাছ নিধন এবং মাদক ও অস্ত্র কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, পাহাড় কেটে মাটি ও খণ্ড খণ্ড জায়গা বিক্রির পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কথিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। দ্রুত অভিযান চালিয়ে সরকারি জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে, মাটিয়াতলী এলাকায় পাহাড় কাটা, মাদারট্রি গাছ নিধন এবং সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ১২৩ নম্বর স্মারকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর উপজেলা ভূমি অফিসে চিঠি দেওয়া হয়।

তবে চিঠি দেওয়ার প্রায় ছয় মাস পরও দৃশ্যমান উচ্ছেদ অভিযান বা আইনগত ব্যবস্থা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ার সুযোগে সরকারি জমি দখল ও পাহাড় কাটার প্রবণতা আরও বাড়ছে।

জেলা প্রশাসনের চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মশিয়ুর রহমান বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, মাদারট্রি গাছ নিধন এবং প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগসংক্রান্ত একটি চিঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তিনি পেয়েছেন। তিনি বলেন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা আবুল কাশেমের বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) বাদল মিঞা বলেন, আবুল কাশেমের আস্তানা সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. ওবাইদুল হক বলেন, কারাগারের আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ বসতি গড়ে ওঠায় নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ কারাগারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেও বাইরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসেন সজীব বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জেলা কারাগারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনার পাশের সরকারি জমি ও পাহাড় দখল, পাহাড় কাটা এবং কথিত অপরাধীদের আস্তানা গড়ে ওঠার অভিযোগ কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তারা দ্রুত সরেজমিন তদন্ত, সরকারি জমি উদ্ধার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পাহাড় ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।