কক্সবাজার

টেকনাফে ৫ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩ মাদক কারবারি

টেকনাফে ৫ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩ মাদক কারবারি

কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক দুই অভিযানে ৫ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে এসআরবি-১৫। এ সময় তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান জব্দ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫ ও বিজিবি। এসব অভিযানে মোট ৫ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারসহ তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে টেকনাফের দক্ষিণ জালিয়াপাড়া এবং সকালে বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া ঘাট এলাকায় অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়।

এসআরবি-১৫ সূত্রে জানা গেছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী টেকনাফে গোয়েন্দা নজরদারি ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটের দিকে এসআরবি-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্প ও ২ বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়নের একটি যৌথ দল শাপলা চত্বর বাজার এলাকায় অবস্থান করছিল।

এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দলটি জানতে পারে, মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে স্থানীয় মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহের উদ্দেশ্যে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী দক্ষিণ জালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থান করছে।

পরে ভোর সাড়ে ৩টার দিকে দক্ষিণ জালিয়াপাড়া ৪ নম্বর ব্রিজের ১ নম্বর সুইচগেটের পশ্চিম পাশের খালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৩ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. ইদ্রিস (৪০) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইদ্রিস টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে।

ট্রলার থেকে আরও ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার
একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কচ্ছপিয়া ঘাট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় এসআরবি-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের সদস্যরা।

এ সময় একটি মাছ ধরার ট্রলারে অভিযান চালিয়ে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুইজন মাদক কারবারিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন—বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকার সুলতান আহমদের ছেলে মো. রিয়াজ (২৩) এবং নুরুল আলম ও নাছিমা দম্পতির ছেলে আতাউর রহমান (২৪)।

এসআরবি-১৫ জানায়, পৃথক দুটি অভিযানে মোট ৫ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে।

১২০ অভিযানে প্রায় ১৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার
এসআরবি-১৫-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১২০টি অভিযানে প্রায় ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪২৭ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া এসব অভিযানে ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ৩০ দশমিক ৫ কেজি গাঁজা, ৫০ বোতল ফেনসিডিল, একটি বিদেশি এসএমজি, একটি এলজি, একটি ওয়ান শুটারগান ও ৩৪২ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

একই সময়ে অপহৃত ও পাচারের শিকার ৪৬ জনকে উদ্ধার এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ১৫৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৫।

ব্যাটালিয়নটি জানিয়েছে, মাদক, অস্ত্র, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের যে পর্যায়েরই হোক না কেন, আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এ কাজে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন প্রত্যাশা করেছে এসআরবি-১৫। গ্রেপ্তার তিন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।