খাসজমিতে মার্কেট নির্মাণ-আদালতের স্থিতাবস্থার মধ্যেই চলছে কাজ!
কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রিক কলাতলী এলাকায় উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ উপেক্ষা করে সরকারি খাসজমিতে নতুন করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২৫ ফুট উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে জায়গাটি ঘিরে দিন-রাত চলছে দোকান নির্মাণের কাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে প্রায় ২০টি দোকান গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণের পর সেগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অঙ্কের ‘সালামি’ বা অগ্রিম অর্থের বিনিময়ে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াকে ঘিরে কোটি টাকার বাণিজ্যের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিনের উঁচু বেড়া দেওয়ার কারণে ভেতরের নির্মাণকাজ বাইরে থেকে সহজে দেখা যাচ্ছে না। তবে বেড়ার আড়ালে শ্রমিকদের দিয়ে দোকানের কাঠামো তৈরির কাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকার পরও সেখানে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও। তাঁদের দাবি, সরকারি জমি এভাবে দখল হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও নতুন করে দখল ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।
কলাতলী এলাকায় সরকারি জমি ও বাতিল বরাদ্দের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ নতুন নয়। চলতি বছরের বিভিন্ন প্রতিবেদনে কলাতলী ও সুগন্ধা এলাকায় সরকারি জমিতে রাতারাতি স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠে এসেছে। এমনকি ২০২৬ সালের আগস্টে সুগন্ধা পয়েন্টে বিপুল মূল্যের সরকারি খাসজমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের অভিযানও হয়েছে।
এর আগে মে মাসেও কলাতলী মোড় এলাকায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতারাতি দোকান নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে পুলিশ বক্সসংলগ্ন এলাকায় একাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের কথা বলা হয়েছিল।
এদিকে, সরকারি জমিতে নতুন করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ভূমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত অভিযান চালানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জমির সরকারি মালিকানা, আদালতের আদেশ এবং নির্মাণকাজের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পর্যটননগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সরকারি জমি দখল করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে উচ্ছেদ ও ভূমি ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।