জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কক্সবাজারে ৮,৮৫৬ গাছের চারা বিতরণ
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও সদর উপজেলায় ৮ হাজার ৮৫৬টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর আর্থিক সহায়তায় এবং কোস্ট ফাউন্ডেশন বাস্তবায়িত ‘রেজিলিয়েন্ট হোমস্টেড অ্যান্ড লাইভলিহুড সাপোর্ট টু দ্য ভালনারেবল কোস্টাল পিপল অব বাংলাদেশ (RHL)’ প্রকল্পের আওতায় এসব চারা বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় কুতুবদিয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ২৬৯ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৩ হাজার ৪৯০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক বনায়নের লক্ষ্যে ২৩টি মাদ্রাসা, মসজিদ, স্কুল ও কলেজে আরও ১ হাজার ৭৫টি চারা বিতরণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে কুতুবদিয়া উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৬৫টি গাছের চারা।
অন্যদিকে, কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে ১৮৬ জন উপকারভোগীর মধ্যে ২ হাজার ১৪৫টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক বনায়নের লক্ষ্যে ৩৩টি প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয় আরও ২ হাজার ১৩৭টি চারা। এ উপজেলায় মোট ৪ হাজার ২৯১টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
কুতুবদিয়ায় আয়োজিত চারা বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মারুফ।
এ সময় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক বনায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি উপকারভোগীদের নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা ও প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত স্থানে সঠিকভাবে চারা রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানানো হয়।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের RHL প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এসব ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।
তারা আরও জানান, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই RHL প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে।