টেকনাফ সীমান্তে বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল ঘরবাড়ি
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে টেকনাফ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি। বুধবার (রাত) সাড়ে ৯টার পর কয়েক দফা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টেকনাফের জাদিমুড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ ও কম্পন অনুভূত হয়। অনেকে আতঙ্কে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
শাহপরীর দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা মো. আনিছুর রহমান বলেন, পরপর চারটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রথম বিস্ফোরণের সময় নাফ নদীর ওপারে আগুনের শিখাও দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে স্থানীয়দের বিভিন্ন ধারণা থাকলেও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, বিস্ফোরণের শব্দে সীমান্ত এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (বিজিবি-২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, রাত ৯টার দিকে মিয়ানমারের মংডু এলাকার সীমান্তের ওপারে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। সেই গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফ সীমান্তেও শোনা গেছে। বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী শাহপরীর দ্বীপ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি চলছে। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরের গোলাগুলির শব্দ সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বরও রাখাইন রাজ্যে সংঘর্ষের সময় উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে মর্টারশেল ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল। এবারও সীমান্তের ওপারে নতুন করে সংঘর্ষের কারণে একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।