পর্যটন

নীল সমুদ্রের শহরে ভেষজের সুবাস: টিসিএমের নতুন স্বর্গ সানইয়ার গল্প

Copied
নীল সমুদ্রের শহরে ভেষজের সুবাস: টিসিএমের নতুন স্বর্গ সানইয়ার গল্প

নীল সমুদ্রের শহর | ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ চীনের হাইনান প্রদেশের সমুদ্রতীরবর্তী শহর সানইয়া দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি পর্যটকদের কাছে নীল সমুদ্র, নারকেল গাছ আর সোনালি বালুকাবেলার জন্য পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই শহর পেয়েছে এক নতুন ও অনন্য পরিচয়। সানইয়া এখন ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা বা টিসিএমের (ট্রেডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন) এক অন্যতম প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে সানইয়ায় আসা অনেক পর্যটক সৈকতে বিশ্রাম নেয়ার বদলে থেরাপি বেডে শুয়ে আকুপাংচার নিচ্ছেন, কিংবা নারিকেল পানির পরিবর্তে চুমুক দিচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী ভেষজ পানীয়তে।

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের বাসিন্দা আলিনা দুদকো পাঁচ বছর আগে নিজের কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানের জন্য প্রথমবারের মতো আকুপাংচার করিয়েছিলেন। শুরুতে কিছুটা সন্দেহ থাকলেও কয়েকটি সেশন শেষে নিজের শরীরের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তিনি।

সেই অভিজ্ঞতা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে দুদকো এখন সানইয়ার তাতোংহাই পর্যটন এলাকার কাছে একটি টিসিএম ক্লিনিকে থেরাপি অনুবাদক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা রোগীদের সঙ্গে চীনা চিকিৎসকদের যোগাযোগ সহজ করতে সহায়তা করেন এবং সহজ ভাষায় চিকিৎসা পদ্ধতির মূল ধারণা ব্যাখ্যা করেন।


দুদকোর মতে, ‘টিসিএম মানুষের স্বাস্থ্যকে সামগ্রিক দৃষ্টিতে দেখার শিক্ষা দেয়। এটি শেখায়—অসুখ হওয়ার পর চিকিৎসা নয়, বরং খাদ্যাভ্যাস, বিশ্রাম ও মানসিক ভারসাম্যের মাধ্যমে আগেই কীভাবে শরীরের যত্ন নেয়া যায়।’

সানইয়ার টিসিএম চিকিৎসক উ ছুনমেই জানান, হাইনান মুক্ত বাণিজ্য বন্দরের উদ্যোগে এখন ৮৬টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত নীতি চালু হয়েছে। এই সহজ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে সানইয়ায় বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা অনেক বেড়েছে, যার মধ্যে রাশিয়া থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

রাশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শীতের কারণে অনেক রুশ নাগরিক ঠান্ডা, জয়েন্টের ব্যথা বা কোমরব্যথার সমস্যায় ভোগেন। শীতকালে তারা উষ্ণ আবহাওয়ার খোঁজে সানইয়ায় আসেন এবং একই সঙ্গে চিকিৎসকদের পরামর্শে টিসিএম থেরাপি নেন।

অন্য একজন চিকিৎসক চাং চিনপেং জানান, সানইয়া শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশ স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার ও সুস্থতার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বছরে ৯৯ শতাংশের বেশি সময় এখানকার বায়ুমান অত্যন্ত চমৎকার থাকে। পাশাপাশি রয়েছে বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল, বনভূমি ও প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ। চিকিৎসায় ব্যবহৃত কাঁচামালের জোগান দিতে এখানকার ১ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে এখন পুরোদমে চাষ হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী চীনা ভেষজ।

বর্তমানে সানইয়া শহরজুড়ে টিসিএম হাসপাতাল, থেরাপি ক্লিনিক ও ওয়েলনেস প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে গড়ে উঠেছে একটি বিস্তৃত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক। এর মধ্যে কেবল ‘সানইয়া টিসিএম হাসপাতাল’ একাই বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি রোগীকে সফলভাবে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছে। তথ্যসূত্র: চায়না ডেইলি