অনিয়ম ও দুর্নীতি

পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে.......

পদত্যাগের ১৬ বছর পরও বেতন তুলছেন অধ্যক্ষ, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

Copied
পদত্যাগের ১৬ বছর পরও বেতন তুলছেন অধ্যক্ষ, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

পদত্যাগের ১৬ বছর পরও বেতন তুলছেন অধ্যক্ষ, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। ছবি কক্সবাজার কন্ঠ

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)-এর এক অডিট প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, পদত্যাগের পরও দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অবৈধভাবে সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) উত্তোলন করেছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ।

একই সঙ্গে এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বেতন, পরীক্ষার ফিসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সোমবার (২০ জুলাই) প্রকাশিত ডিআইএ-এর তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আমির হোসাইন পদত্যাগ করার পর পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই পদে নিয়োগ পাননি। ফলে বিধি অনুযায়ী তিনি সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। তবুও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অবৈধভাবে মোট ৭৮ লাখ ১২ হাজার ৭৫ টাকা সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিআইএ ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্ত চলাকালে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সরবরাহ না করায় তদন্ত কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। তাঁর অননুমোদিত অনুপস্থিতিকালে উত্তোলন করা আরও ১৭ লাখ ২৭ হাজার ২০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া গভর্নিং বডির মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, বেতন-ভাতা স্থায়ীভাবে স্থগিত এবং এমপিও তালিকা থেকে নাম কর্তনের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

অন্যদিকে, একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষিকা জান্নাত আরা বেগমের বিরুদ্ধেও গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা নিয়মিত বেতন, পরীক্ষার ফিসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ মাদরাসার তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

ডিআইএ-এর তদন্ত দল এ বিষয়ে তাঁর লিখিত বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি প্রশ্নপত্র গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বেতন-ভাতা স্থগিতের সুপারিশও করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অধ্যক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগসূত্রের মাধ্যমে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, মাদরাসার দুই শীর্ষ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশের পর স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।