কক্সবাজার

পাহাড়ে তিনজনের মরদেহ থাকার খবর, চলছে উদ্ধার অভিযান

পাহাড়ে তিনজনের মরদেহ থাকার খবর, চলছে উদ্ধার অভিযান

ছবি সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ে তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পূর্ব পাশের পাহাড়ে মরদেহগুলোর সন্ধান পাওয়ার খবর পায় পুলিশ। তবে এখনো মরদেহগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সেগুলোর সন্ধানে ঘটনাস্থলে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে একই পাহাড়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। এ সময় মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে মানবপাচারকারীদের গুলিতে সেনাসদস্য সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৮) নিহত হন।

ওই অভিযানে ৫৬ জনকে উদ্ধার এবং মানবপাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শুক্রবার সকালে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া ৫৬ জনের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। মামলার তদন্ত ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে তাঁদের সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর মামলা দায়েরসহ মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পাহাড়ে তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সশস্ত্র অপরাধীদের আস্তানা নির্মূলে দুর্গম পাহাড়জুড়ে অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। অপরাধ করে কারও পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গুলিতে দায়িত্ব পালনরত একজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁরা গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। এ ধরনের অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।