রামুতে স্ত্রী নির্যাতন ও দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে যুবকের সাজা
কক্সবাজারের রামুতে প্রথম স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে বেলাল হোছন নামের এক যুবককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ দণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত বেলাল হোছন উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের পশ্চিম মনিয়ারঝিল দরগাহপাড়া এলাকার জাফর আলমের ছেলে। বৃহস্পতিবার রামু থানা-পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে এএসআই আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মার্মা সম্প্রদায়ের এক তরুণী প্রায় সাত বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বেলাল হোছনকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে দুই থেকে তিন বছর ভালোভাবে কাটলেও পরে বেলাল মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এরপর যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, একপর্যায়ে বেলাল পার্শ্ববর্তী এলাকার দুই সন্তানের জননী রেশমী আক্তারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে তাঁকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর প্রথম স্ত্রী ফাতেমা ও তাঁদের সন্তানদের ভরণপোষণ বন্ধ করে দেন। তাঁদের কোনো খোঁজখবরও রাখতেন না। বরং মাঝেমধ্যে বাড়িতে এসে মাদক কেনার জন্য ফাতেমার কাছে টাকা চাইতেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ রয়েছে, বেলাল বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁকে বাধা দিলে তাঁদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করতেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও তাতে কাজ হয়নি বলে জানান এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় বেলাল হোছনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও রামু থানা-পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা।