রোহিঙ্গা ক্যাম্প

বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টাকার বিনিময়ে ভ্যান চলাচল

বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টাকার বিনিময়ে ভ্যান চলাচল

বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টাকার বিনিময়ে চলছে ভ্যান চলাচল—ছবি: কক্সবাজার কণ্ঠ

কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধভাবে চলাচলকারী ভ্যানগাড়ির চালকদের কাছ থেকে মাসিক ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, আকবর আহমদ ও জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে ওই সিন্ডিকেটটি ক্যাম্পে ভ্যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্যাম্পটিতে শতাধিক ভ্যানগাড়ি চলাচল করছে। এসব ভ্যানের চালকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে আদায় করা হয় বলে দাবি করেছেন কয়েকজন রোহিঙ্গা। তাদের অভিযোগ, পুলিশকে দেওয়ার কথা বলে নিয়মিতভাবে এসব টাকা আদায় করা হচ্ছে।

একাধিক রোহিঙ্গা জানান, মাসিক ২ থেকে ৩ হাজার টাকা না দিলে ক্যাম্পের ভেতরে ভ্যান চালানোর সুযোগ পাওয়া যায় না। চাঁদা দেওয়ার বিনিময়েই ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ভ্যান চালানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, ক্যাম্পের ভেতরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভ্যান চলাচলের কারণে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে। তবে এসব দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আকবর আহমদ ও জাহাঙ্গীর আলম। গণমাধ্যমকে তারা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। চাঁদা আদায় কিংবা ভ্যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে ক্যাম্প-১১-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক নাহিদুল ইসলাম বলেন, “আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো গাড়ির লাইন ব্যবহার করতে দেয় না পুলিশ। কোনো পুলিশ সদস্য এ ধরনের অপকর্মে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে ক্যাম্পে অবৈধভাবে ভ্যান চলাচল এবং কথিত সিন্ডিকেটের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।