খেলাধুলা

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় বিশ্বজুড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি!

Copied
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় বিশ্বজুড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি!

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কর্মঘণ্টা ও উৎপাদনশীলতা কমে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা। কীভাবে এই বিশাল ক্ষতি হলো, জানুন বিস্তারিত।

ফুটবল বিশ্বকাপকে বলা হয় ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। চার বছর পরপর আয়োজিত এই ফুটবল মহাযজ্ঞে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কাজকর্ম ভুলে মেতে ওঠেন প্রিয় দলের সমর্থনে। স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে শুরু করে টেলিভিশনের পর্দা—সবখানেই চলে ফুটবল উন্মাদনা। গত প্রায় দেড় মাস ধরে মেসি, এমবাপ্পে, লামিন ইয়ামাল, রোনালদো কিংবা নেইমারদের নিয়ে ব্যস্ত ছিল ফুটবলপ্রেমীরা।

ফিফার অন্যতম লাভজনক আয়োজন বিশ্বকাপ। টেলিভিশন সম্প্রচার, বিজ্ঞাপন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে এই টুর্নামেন্ট থেকে বিপুল আয় করে সংস্থাটি। তবে ফুটবল উন্মাদনার বিপরীত প্রভাব পড়ে কর্মক্ষেত্রে। খেলা দেখতে গিয়ে কর্মীদের অনুপস্থিতি ও মনোযোগ কমে যাওয়ায় উৎপাদনশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।


প্রায় দেড় মাসের ফুটবল উৎসব এখন শেষ পর্যায়ে। রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এবারের বিশ্বকাপের।


যৌথ আয়োজক হিসেবে মেক্সিকো ও কানাডা থাকলেও এবারের বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। হিউম্যান রিসোর্স সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ‘ইউকেজি’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতা কমে প্রায় ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। বিশ্বব্যাপী এই ক্ষতির পরিমাণ ১৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে প্রিয় দলের খেলার দিন অনেক কর্মী আগেভাগে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন, কেউ কেউ দেরিতে অফিসে যোগ দিয়েছেন, আবার অনেকে পুরো দিন অনুপস্থিত থেকেছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কর্মক্ষেত্রের উৎপাদনশীলতায়।

কর্মক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম ‘এনভয়’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পরদিন ৭ জুলাই দেশটির বিভিন্ন অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি ২৬ শতাংশ কমে যায়। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় আমেরিকান ফুটবল ফাইনাল ‘সুপার বোল’-এর পরদিন অনুপস্থিতির হার বেশি থাকে। তবে ৭ জুলাইয়ের অনুপস্থিতির হার ছিল সুপার বোলের পরদিনের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি।

শুধু কর্মীদের উপস্থিতিই নয়, ওই দিন ক্লায়েন্ট মিটিং, সাক্ষাৎকার এবং ভেন্ডর অ্যাপয়েন্টমেন্টের মতো ভিজিটর এন্ট্রিও ৩২ শতাংশ কমে যায়। সুপার বোলের পরদিনের তুলনায় এই হার ছিল প্রায় তিন গুণ বেশি। এনভয় এই ঘটনাকে ‘নকআউট মঙ্গলবার’ নামে উল্লেখ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলোর দিন এবং পরদিন কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতির হার ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে স্বাগতিক দেশ টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর দেশটিতে বিশ্বকাপ নিয়ে আগ্রহ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে এবং অফিসে উপস্থিতিও স্বাভাবিক হতে থাকে।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় কোনো বৈশ্বিক আয়োজনের কারণে কর্মীদের মনোযোগ কমে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে অলিম্পিক গেমস এবং ২০২৩ সালে ‘বার্বি’ ও ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমা মুক্তির সময়ও কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতিতে প্রভাব পড়েছিল।

বিশ্বকাপের প্রভাব কমাতে কিছু প্রতিষ্ঠান বিকল্প ব্যবস্থাও নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচের দিন যানজট ও যাতায়াতের সমস্যা এড়াতে এসঅ্যান্ডপি, জেপিমরগান চেজ অ্যান্ড কোং এবং গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দেশটিতে ফুটবল নিয়ে আগ্রহ অনেকটাই কমেছে। ফলে আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনাল নিয়েও তেমন বড় উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে না।

এনভয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফাইনালের পরদিন কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি কিছুটা কমতে পারে। তবে তা ‘নকআউট মঙ্গলবার’-এর মতো বড় হবে না। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, ফাইনালের পরদিন অন্যান্য সোমবারের তুলনায় কর্মীদের উপস্থিতি প্রায় ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ কম হতে পারে।