কক্সবাজার

রাবেতা খালে বালু উত্তোলন বন্ধে ফের অভিযান, বালুভর্তি ডাম্পার জব্দ

রাবেতা খালে বালু উত্তোলন বন্ধে ফের অভিযান, বালুভর্তি ডাম্পার জব্দ

ছবি সংগৃহীত

কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাবেতা খালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে আবারও অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে বালুভর্তি একটি ডাম্পার জব্দ করা হলেও বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিন জব্দ করা সম্ভব হয়নি। এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) একই স্থানে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট করে দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমানের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বরূপ মুহুরীর নেতৃত্বে বুধবারের অভিযান পরিচালিত হয়। তবে অভিযানের বিষয়ে জানতে ইউএনও ও সহকারী কমিশনারের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁদের খুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের একাধিক অভিযানের পরও রাবেতা খালে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। অভিযানের খবর আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় ড্রেজার মেশিনসহ বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মানবপাচারসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত হামিদুল হক ওরফে হালাবা ডাকাতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর প্রশাসনের অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর অভিযোগকারী মৌলভী নুরুল হুদার বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। নুরুল হুদার অভিযোগ, একই এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে হামিদুল হক ওরফে হালাবার নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালান।

নুরুল হুদা জানান, আকস্মিক হামলার ঘটনায় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসআই সোলাইমান ঘটনাস্থলে না গিয়ে নুরুল হুদাকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।

নুরুল হুদা জানান, তিনি এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের তির এসআই সোলাইমান ও তাঁর গাড়িচালক মোহাম্মদ হৃদয়ের দিকেও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রামুর ধেছুয়া পালং এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল গণির বাড়ির প্রায় ২৫০ ফুট উত্তরে রাবেতা খালে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে আদালত ও ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও শুরুতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

তাঁদের অভিযোগ, গত ১৯ অক্টোবর ইউএনওর নির্দেশে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের দারিয়ারদীঘি বিটের ভারপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা নোমান ঘটনাস্থলে যান। তবে তিনি ড্রেজার মেশিন ও বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ না করেই ফিরে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরদিন ২০ অক্টোবর হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সোলাইমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, সেদিনও সেখানে বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম ছিল। পরদিন ২১ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে তিনি আবার ঘটনাস্থলে যান এবং প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, পরে হামিদুল হকের বড় ভাই রমিজের সঙ্গে এসআই সোলাইমানকে ধেছুয়া পালং স্টেশনে চা পান ও আলাপ করতে দেখা যায়। অভিযোগকারী নুরুল হুদার দাবি, এসআই সোলাইমান তাঁর কাছ থেকে খরচের টাকা নিয়েছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা রাবেতা খালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মৌলভী নুরুল হুদার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।