রামুতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপির ব্রিফিং
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারের রামুতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের বাছাই কার্যক্রম ও চূড়ান্ত ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিন রামু উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ১৫০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রামু উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা, পূর্ব অভিজ্ঞতা ও শৃঙ্খলাবোধ বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়। পরে তাঁদের দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন রামু উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার।
কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার জানান, কক্সবাজার জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পূজামণ্ডপের গুরুত্ব বিবেচনায় সেগুলোকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
অধিক গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপে প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) ও সহকারী প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি)সহ নারী-পুরুষ মিলিয়ে আটজন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ শ্রেণির প্রতিটি পূজামণ্ডপে ছয়জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপে জরুরি তথ্য জানানোর ব্যবস্থা
এবারের নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। উৎসব চলাকালে প্রতিটি পূজামণ্ডপ থেকে মনোনীত দুজন এন্ড ইউজার (End User) এ অ্যাপের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণকক্ষে তথ্য পাঠানো যাবে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাছাই ও ব্রিফিং শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খল প্রবেশ ও প্রস্থান নিশ্চিত করা, সন্দেহজনক পরিস্থিতি শনাক্ত করা এবং জরুরি অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, জেলা কমান্ড্যান্টের কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ বছর কক্সবাজার জেলার নয়টি উপজেলার ১৮৮টি পূজামণ্ডপে মোট ১ হাজার ২০২ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। দুর্গোৎসব চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন।