সম্পাদকীয়: এক সিফাতের কান্না, আমাদের রাষ্ট্রের দায়
১৮ বছরের এক তরুণ। ছয় বছর আগে হারিয়েছে বাবাকে। সেই শোক সামলে পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করে মা ও তিন বোনের সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল। কিন্তু এবার এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে হারিয়েছে মা ও তিন বোনকেও। মুহূর্তেই নিঃস্ব হয়ে যাওয়া সিফাতের জীবন কেবল একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়; এটি আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে এক কঠিন প্রশ্ন।
যে ঘরে মানুষ সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করে, সেই ঘরেই যদি একটি পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, তবে মানুষের নিরাপত্তাবোধ কোথায় দাঁড়ায়? এমন নৃশংস ঘটনার পেছনের কারণ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা জরুরি। অপরাধের উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাও স্পষ্ট করতে হবে। এতে শুধু ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধেও সহায়ক হবে।
একই সঙ্গে ভুলে গেলে চলবে না, এখন সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছে সিফাত। পরিবার হারানোর এই শোকের পাশাপাশি তাকে ঘিরে রয়েছে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। তার শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও জীবিকার দায়িত্বে রাষ্ট্র, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মানবিক সহায়তা যেন সাময়িক সহানুভূতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে রূপ নেয়।
একটি সভ্য সমাজের পরিচয় শুধু অপরাধীর শাস্তিতে নয়, বরং বেঁচে থাকা মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেও নিহিত। সিফাতের কান্না যেন আরেকটি ক্ষণিকের আলোচিত ঘটনা হয়ে না থাকে; এটি হোক আমাদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মানবিক দায়িত্ববোধকে নতুন করে মূল্যায়নের উপলক্ষ।