অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম বাড়াচ্ছে চোখের সমস্যা, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট ছাড়া দৈনন্দিন জীবন যেন কল্পনাই করা যায় না। অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিনোদন কিংবা কেনাকাটা—সবকিছুতেই বেড়েছে স্ক্রিনের ব্যবহার। তবে প্রযুক্তির এই সুবিধার পাশাপাশি বাড়ছে চোখের বিভিন্ন সমস্যাও। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে ডিজিটাল আই স্ট্রেইন (Digital Eye Strain) বা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম-এর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক ফেলার হার কমে যায়। ফলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হ্রাস পায় এবং শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা, চোখে ক্লান্তি, এমনকি ঘাড় ও কাঁধে ব্যথার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যারা প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কম্পিউটার বা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে এসব সমস্যা বেশি দেখা যায়।
American Optometric Association (AOA) জানিয়েছে, ডিজিটাল আই স্ট্রেইন কমানোর সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো ২০-২০-২০ নিয়ম। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিনে কাজ করার পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকাতে হবে। পাশাপাশি প্রতি দুই ঘণ্টা পর অন্তত ১৫ মিনিটের বিরতি নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
চক্ষু বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, স্ক্রিনের অবস্থান ও কাজের পরিবেশও চোখের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। স্ক্রিন যেন চোখের সমতলের সামান্য নিচে থাকে এবং চোখ থেকে প্রায় ২০–২৪ ইঞ্চি দূরে থাকে। ঘরের আলো এবং স্ক্রিনের উজ্জ্বলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা, স্ক্রিনে অতিরিক্ত প্রতিফলন (Glare) কমানো এবং লেখার ফন্ট আরামদায়ক আকারে রাখা চোখের চাপ কমাতে সাহায্য করে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘুম। রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ট্যাবলেট ব্যবহার করলে অনেকের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা শোবার অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে আনার পরামর্শ দেন। এতে শুধু চোখ নয়, ঘুমের মানও উন্নত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের মতামত
American Academy of Ophthalmology (AAO) বলছে, বর্তমানে এমন কোনো শক্ত প্রমাণ নেই যে সাধারণভাবে ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহার চোখের স্থায়ী ক্ষতি করে। তবে দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিনে কাজ করলে ডিজিটাল আই স্ট্রেইনের উপসর্গ—যেমন চোখ শুষ্ক হওয়া, ঝাপসা দেখা, চোখে ক্লান্তি ও মাথাব্যথা—দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত বিরতি নেওয়া, ঘন ঘন চোখের পলক ফেলা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি নিচের সমস্যাগুলো বারবার দেখা দেয়, তাহলে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
১। দীর্ঘ সময় ঝাপসা দেখা
২। চোখে তীব্র ব্যথা বা জ্বালাপোড়া
৩। অতিরিক্ত শুষ্কতা বা পানি পড়া
৪। আলোতে অস্বস্তি
৫। ঘন ঘন মাথাব্যথা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা, নিয়মিত বিরতি এবং সঠিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডিজিটাল আই স্ট্রেইন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে চোখের যত্ন নেওয়াও এখন স্বাস্থ্য সচেতনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।